লোকসান গুনতে হচ্ছে ঘোড়াঘাটের আলু চাষীদের
ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ৫:২০ পিএম

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে আলুর ফলন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি কিন্তু দাম নিয়ে হতাশ কৃষক। ফলে লোকশান গুনতে হচ্ছে কৃষকদের। 

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বেশ কিছু জায়গায় আলু তোলা শুরু হয়েছে। কিন্তু বাজারে দাম কম যা দিয়ে কৃষকের আলুর উৎপাদন খরচ পাওয়া বড় কঠিন। 

কৃষকরা বলছেন, উৎপাদন খরচ সারের দাম অপরিবর্তনীয় থাকলেও কীটনাশক, লেবার, পানি সেচের খরচ অনেক বেশি হওয়ায় লাভের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। এখন রমানা প্রতিমন আলুর মূল্য ৫শ আর পাকড়ি জাতের আলু ৭শ টাকা দরে বিক্রি করছেন কৃষকরা। দুই মাস পূর্বে যে কৃষক ক্রয় করেছে প্রতি কেজি ৮০ টাকায়, সেই কৃষক আলু উৎপাদনের পর বিক্রি করছে প্রতি কেজি ১৫ থেকে ২০ টাকায়।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলায় মোট ১ হাজার ৮শ ৫০ হেক্টর জমিতে আলু উৎপাদনের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছিল। অর্জন হয়েছে ২ হাজার ২শ ৫০ হেক্টর। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪০০ হেক্টর বেশি। এতে করে বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণে আলুর সরবরাহ আছে। পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় আলুর দাম কমে গেছে। তাতে করে ক্ষতির শিকার হচ্ছেন প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকরা। আলুর দাম বেশি হলে সরকারের উপর যেমন চাপ থাকে, তেমনি আলুর দাম কম হলেও সরকারের উপর সাধারণ মানুষের চাপ থাকে।

এ বিষয়ে ভর্নাপাড়া গ্রামের কৃষক মাহাতাব উদ্দিন, কৃষ্ণরামপুর গ্রামের শাজাহান মিয়া, মমিন, মনোয়ার মুন্সী ও আরো অনেকে বলেন, এক হাজার টাকা প্রতিমণ আলু বিক্রয় হলে কোন মতে উৎপাদন খরচ পাওয়া যেত।

উপজেলার হাটপাড়া দুর্গাপুর গ্রামের কৃষক সোহরাব মন্ডলের সাথে কথা হলে তিনি জানান, তিনি এবার ৫০ শতক জমিতে পাকড়ি আলু আবাদ করেছেন। বাজার দর হিসাবে ৭শ টাকা মণ বিক্রি করতে পারবেন। তাতে তার খরচই তুলতে পারবেন না। দাম নিয়ে খুব হতাশ। তিনি সরকারের কাছে আবেদন করেছেন যাতে এমন ব্যবস্থা করা হয় কৃষকরা ক্ষতির শিকার না হয়।

এ বিষয়ে ঘোড়াঘাট কৃষি কর্মকর্তা রফিকুজ্জামান বলেন, এ বছর আবহাওয়া আলু চাষের অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হয়েছে। ইরি মৌসুমে চাষের খরচ মেটানোর জন্য এবং আলু তোলার পুরো মৌসুম জুড়ে চলমান থাকায় বাজারে ব্যাপক সরবরাহের কারণে দাম কম।

তিনি আরও বলেন, আমার লোকজন কৃত্রিম উপায়ে আলু সংরক্ষণ করে আস্তে আস্তে আলু বিক্রয় করার পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। সরকার ফসলের উৎপাদন বেশী হলেও কৃষকরা যাতে ন্যায্য মূল্য পায় সে বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন। আশা করছি পরবর্তী বছর থেকে উৎপাদন বেশি বা বাজারে সরবরাহ বেশি হলেও দামের একটা নির্দিষ্ট নির্ধারণ থাকবে। যাতে কৃষকরা উৎপাদন বা বাজারে ফসলের সরবরাহ বেশি থাকলেও উপযুক্ত দাম পায়। এছাড়াও সরকারি ভাবে কোল্ড স্টোরেজ করার পরিকল্পনা চলছে যাতে স্বল্প খরচে আলু মজুদ করে রাখতে পারেন কৃষকরা।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft