প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ১১:২০ এএম

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা ও গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ছয় সপ্তাহের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। হোরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের অবস্থান এবং লোহিত সাগরে সৌদি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনার পর বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
বাজার সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ২ দশমিক ৩ শতাংশ বা ২ দশমিক ২ ডলার বেড়ে ৯৬ দশমিক ২৭ ডলারে পৌঁছেছে, যা গত ৮ জুনের পর সর্বোচ্চ। একই সময়ে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৮ দশমিক ৪৮ ডলারে উঠেছে। এর আগের লেনদেনেও উভয় ধরনের তেলের দাম ৩ ডলারের বেশি বেড়েছিল।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে হোরমুজ প্রণালি ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিকে ঘিরে অনিশ্চয়তা বাড়ায় আন্তর্জাতিক তেলবাজারে দামের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে, হোরমুজ প্রণালির দক্ষিণাঞ্চলে একটি তেলবাহী ট্যাংকার বিস্ফোরণের শিকার হয়েছে এবং আরও কয়েকটি জাহাজ তাদের রুট পরিবর্তন করেছে। একই সঙ্গে প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত করার কথাও জানিয়েছে তারা।
অন্যদিকে, ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরে সৌদি আরবের একটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার দাবি করেছে। এ ঘটনার পর আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন খাতে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দুটি তেল পরিবহন পথ-হোরমুজ ও বাব আল-মান্দেব-একযোগে ঝুঁকির মুখে পড়লে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা আরও জোরালো হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনাও পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন সংশ্লিষ্টরা। সূত্র: রয়টার্স
জ/উ