দেবীগঞ্জে পশুর স্বাস্থ্য সনদ ও নিরাপদ মাংস সরবরাহ নিশ্চিতে মাঠে নেমেছে প্রাণী সম্পদ দপ্তর
প্রকাশ: বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬, ৫:৪৭ পিএম

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে ক্রেতাদের মাঝে নিরাপদ মাংস সরবরাহ নিশ্চিতে মাঠে নেমেছে উপজেলা প্রাণী সম্পদ দপ্তর। পশু জবাইয়ের আগে বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও স্বাস্থ্য সনদ ছাড়া আর পশু জবাই করা যাবে না। আগামী সপ্তাহ থেকে এ নিয়ম কার্যকর করতে মাঠে নেমেছে দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর। বুধবার (১৫ জুলাই) পৌরসভার মাংস প্রক্রিয়াজাতকারী ও ব্যবসায়ীদের সচেতন করতে মাংসের দোকান পরিদর্শন এবং আইন সম্পর্কে অবহিতকরণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, দেশে গবাদিপশুর মধ্যে অ্যানথ্রাক্সসহ বিভিন্ন জুনোটিক রোগের সংক্রমণের ঝুঁকি বিবেচনায় জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং ভোক্তা পর্যায়ে নিরাপদ মাংস সরবরাহ নিশ্চিত করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে দেবীগঞ্জ উপজেলার সব ইউনিয়ন ও পৌরসভায় পশু জবাইয়ের আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করতে একটি তদারকি দলও গঠন করা হয়েছে।
বুধবারের পরিদর্শনে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আখতারুজ্জামান নিজে উপস্থিত থেকে মাংস ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১১ যথাযথভাবে অনুসরণের আহ্বান জানান। এ সময় স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মোস্তাবুল হকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পৌরসভার বিভিন্ন মাংসের দোকান পরিদর্শন করেন। ব্যবসায়ীদের জবাইয়ের আগে প্রাণির স্বাস্থ্য পরীক্ষা, নির্ধারিত স্থান ও সময়ে পশু জবাই, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মাংস বিক্রি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, মাংস প্রক্রিয়াজাতকারীদের ফিটনেস সার্টিফিকেট ও স্বাস্থ্য সনদ গ্রহণের বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়। এর আগেই ব্যবসায়ীদের সতর্কতামূলক নোটিশও প্রদান করা হয়েছে।
এর আগে দেবীগঞ্জে গবাদিপশুর মাংস বিক্রির সঙ্গে জড়িত কিছু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে উপজেলার বাইরে থেকে মাংস এনে বিক্রি, অসুস্থ পশু জবাই এবং সকালে জবাই করা পশুর মাংস সন্ধ্যা পর্যন্ত বিক্রির অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে ওঠে। এসব অভিযোগে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। বিষয়টি উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের নজরে আনা হলে নিরাপদ মাংস সরবরাহ নিশ্চিত করতে দ্রুত তদারকি কার্যক্রম শুরু করে দপ্তরটি।
ইতিমধ্যে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আখতারুজ্জামান স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে ভেটেরিনারি সার্জন ডা. অনন্যা সাহাকে টিম লিডার করে ১০ সদস্যের 'নিরাপদ গবাদিপশুর মাংস নিশ্চিতকরণ টিম' গঠন করা হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে কর্মরত এআই টেকনিশিয়ানদের এ দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তারা নিজ নিজ এলাকায় পশু জবাইয়ের আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও সনদ প্রদানের কার্যক্রম তদারকি করবেন।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো: আখতারুজ্জামান বলেন, আগামী সপ্তাহ থেকে জবাইয়ের আগে প্রতিটি প্রাণির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে সনদ গ্রহণ বাধ্যতামূলক। এছাড়া ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনীয় অন্যান্য লাইসেন্স সম্পন্ন করতে চলতি জুলাই মাস পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে।