প্রকাশ: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ৩:২৯ পিএম

বিদেশি বিভিন্ন জাতের মুরগীর খামার করে স্বাবলম্বী হয়েছেন, স্বপ্ন দেখছেন গিনেস বুকে নাম লেখাবেন৷ তিনি রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের বড়বাংলাট গ্রামের মৃত আমীর হোসেনের ছেলে জাহাঙ্গীর হোসেন (৪০)। বর্তমানে তার খামারে ৪০ প্রজাতের বিদেশি জাতের প্রায় দেড় শতাধিক মুরগী রয়েছে। বিভিন্ন জাতের এই মুরগী দেখতে প্রায় প্রতিদিনই ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, পাবনা সহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে অসংখ্য দর্শনার্থী আসেন করছেন তার খামারে।
পিতার মৃত্যুর পর আর্থিক সংকটের কারনে পরা-শোনা শেষ করতে পারেননি জাহাঙ্গীর। পারিবারিক স্বচ্ছলতা আনতে পাড়ি দেন বিদেশে কিন্তু ভাগ্য সহায় হয় নি! দালালের খপ্পরে পরে প্রতারনার শিকার হন। ২০১৬ সালে ভারতে গিয়ে বিভিন্ন জাতের মুরগীর খামার পর্যবেক্ষন করেন, এবং দেশে এসে চার জোড়া বিদেশি মুরগী দিয়ে স্বল্প পরিসরে খামার শুরু করেন। তারই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন জাতের মুরগী সংগ্রহ করতে শুরু করেন। তার খামারে, উইনডট, কসমো,বেলজিয়াম বিয়ার্ড, সিলভারলেস, সেরেমা,ইওকোহামা,মর্ডান গেম,সুমাত্রা সহ ৪০ জাতের মুরগী রয়েছে। এসব মুরগী জোড়া ১৫ হাজার থেকে শুরু করে প্রায় ৮০ টাকায় বিক্রি হয়।
এসম্পর্কে খামারি জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন বিদেশ যাওযার জন্য টাকা দিয়ে প্রতারণার শিকার হই। পরে ভারতে গিয়ে বিভিন্ন জাতের মুরগী খামার দেখে উৎসাহিত হই। সেখান থেকে চার জোড়া বিদেশি মুরগী দেশে এনে খামার শুরু করি। সবচেয়ে বেশি বিদেশি জাতের মুরগী সংগ্রহকারী হিসেবে গিনেস বুকে নিজের নাম লেখনোর স্বপ্ন আমার।
বিভিন্ন প্রজাতির মুরগী পাশাপাশি আমার আমার খামাে ময়ূর পাখিও আছে প্রতি জোড়া ময়ুর ৫০ হাজার টাকা বিক্রি করি এবং বিভিন্ন পার্ক সহ সৌখিন মানুষ তারা অনলাইনের মাধ্যমে আমার থেকে কিনে নেয়। দর্শনার্থীরা জানান জাহাঙ্গীর এর খামারে বিভিন্ন প্রজাতির মুরগী পালন দেখে অনেকে আগ্রহ হচ্ছেন এবং বেকার যুবকরা খামার করে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছে।
কালুখালি উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা মো রফিকুল ইসলাম রতন বলেন জাহাঙ্গীর এর খামারে বিভিন্ন জাতের পাখি পাশাপাশি দেশি প্রজাতির হাস মুরগী পাখি রয়েছে আমাদের দপ্তর থেকে সেই খামারটি নিয়মিত পরিদর্শন করি তার খামারটা কিভাবে আরো লাভজনক পর্যায়ে পৌছানো যায় সে বিষয়ে আমরা পরামর্শ দিয়ে থাকি। এছাড়া বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে কি কি ভ্যাকসিন দিতে হবে সে বিষয়ে আমরা পরামর্শ দিয়ে থাকি এবং সরকারি যে ওষুধ রয়েছে তা প্রয়োজন মত তাকে সরবরাহ করে থাকি।