
বান্দরবানে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১৪৫টি পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছেন মেজর (অব.) ওয়াং টিং। এ কার্যক্রমে সার্বিক সহযোগিতা করেছে লাঃনিং রং ওফোয়েঃ যুব কল্যাণ সমিতি। সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে সদর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের লেমুঝিড়ি ও উজানী পাড়ায় এ ত্রাণ বিতরণ করা হয়।
এদিন লেমুঝিড়ি পাড়ার ৬০টি এবং উজানী পাড়ার ৮৫টি পরিবারসহ মোট ১৪৫টি পরিবারের হাতে খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। প্রতিটি পরিবারকে ৫ কেজি আলু, ১ কেজি ডাল, ভোজ্যতেল, লবণ, এক প্যাকেট মোমবাতি, মুড়ি এবং ৫ লিটার বিশুদ্ধ মিনারেল পানিসহ ১৩ ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী দেওয়া হয়।
ত্রাণ বিতরণকালে মেজর (অব.) ওয়াং টিং বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগ এবং বন্ধু-স্বজনদের সহযোগিতায় এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। তিনি বলেন, সরকারি সহায়তার পাশাপাশি স্থানীয় যুবসমাজ ও সচেতন মানুষের অংশগ্রহণে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ক্ষয়ক্ষতির তুলনায় এ সহায়তা সীমিত হলেও মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ত্রাণপ্রাপ্ত শৈম্রাউ মারমা (৭৫) ও শৈও য়াং প্রু মারমা (৭০) জানান, বন্যায় তাদের বসতবাড়ি ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ অবস্থায় পাওয়া ত্রাণ তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হিসেবে কাজ করবে।
বান্দরবান সদর ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য মেয়ই মারমা বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন এগিয়ে আসায় দুর্গত পরিবারগুলো উপকৃত হচ্ছে। তিনি মেজর (অব.) ওয়াং টিংয়ের উদ্যোগকে স্বাগত জানান।
ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে বান্দরবান প্রেসক্লাবের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বাচ্চু, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পুলু প্রু, তহজিংডংয়ের নির্বাহী পরিচালক চিংসিং মং মারমা, যুবনেতা সিংথোয়াই মারমা, উক্যসিং মারমাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, জেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, বিজিবি, পার্বত্য জেলা পরিষদসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে বন্যাদুর্গত এলাকায় ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেছেন, শহরের পাশাপাশি দুর্গম এলাকাগুলোতেও সমান গুরুত্ব দিয়ে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।
জ/দি