প্রকাশ: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ১১:২৬ এএম

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আবারও দেখা মিলেছে দেশের অন্যতম বিরল আবাসিক পাখি ‘কালো মথুরা’র। সম্প্রতি বন্যপ্রাণী আলোকচিত্রী আনিস শেখ উদ্যানের গহিন অরণ্যে একটি পূর্ণবয়স্ক পুরুষ কালো মথুরার দুর্লভ ছবি ধারণ করেছেন। এই ছবি প্রকাশের পর প্রকৃতিপ্রেমী ও বন্যপ্রাণী গবেষকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে।
বন বিশেষজ্ঞরা জানান, কালো মথুরা বাংলাদেশের অতি বিরল প্রজাতির একটি বনমুরগি। এরা সাধারণত ঘন চিরসবুজ বনের বাসিন্দা। প্রচণ্ড লাজুক প্রকৃতির এই পাখি মানুষের উপস্থিতি টের পেলেই দ্রুত ঝোপঝাড়ের আড়ালে আত্মগোপন করে। ফলে বনের ভেতরে এদের দেখা পাওয়া যেমন দুষ্কর, ছবি তোলা তার চেয়েও বেশি চ্যালেঞ্জিং।
আলোকচিত্রী আনিস শেখ তার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, দীর্ঘদিন বন পর্যবেক্ষণের পর সাতছড়ির একটি নির্জন এলাকায় পাখিটির দেখা পাই। এটি তখন বনের ঝরাপাতার ওপর খাবার খুঁজছিল। নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে সাবধানে এর কয়েকটি ছবি তুলি।
তিনি মনে করেন, বনাঞ্চলে এমন বিরল প্রজাতির উপস্থিতি দেশের জীববৈচিত্র্যের জন্য এক ইতিবাচক বার্তা। প্রকৃতিবিদদের মতে, পুরুষ কালো মথুরার শরীরের পালক চকচকে নীলাভ-কালো এবং চোখের চারপাশে লাল রঙের খোলা চামড়া থাকে। এদের লম্বা লেজটি সাদা ও কালোর মিশ্রণে তৈরি। মূলত বনের ফল, বীজ ও ছোট পোকামাকড় খেয়ে এরা জীবনধারণ করে।
উল্লেখ্য, ২৪৩ হেক্টর আয়তনের সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান উল্লুক, মুখপোড়া হনুমান ও মায়া হরিণসহ অসংখ্য বিরল প্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল। সেখানে কালো মথুরার এই পুনরাবির্ভাব উদ্যানটির পরিবেশগত গুরুত্বকে আরও ত্বরান্বিত করল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জ/দি