প্রকাশ: রোববার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ৯:৫১ পিএম

বিদেশি বিনিয়োগ, আন্তর্জাতিক ব্যবসা ও পর্যটন খাতকে আরও গতিশীল করতে দেশের ভিসা ব্যবস্থা আধুনিকায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে নতুন ভিসানীতি প্রণয়নের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
রোববার (১২ জুলাই) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, নতুন ভিসানীতির মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগকারী, পর্যটক ও দক্ষ জনশক্তির বাংলাদেশে প্রবেশ আরও সহজ হবে। এর ফলে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
মন্ত্রী জানান, বর্তমান ভিসানীতিকে সময়োপযোগী ও ব্যবসাবান্ধব করতে সরকার কাজ করছে। নতুন নীতির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ আরও শক্তিশালী হবে।
সরকারি সূত্র জানায়, নতুন ভিসানীতির লক্ষ্য হলো বিদেশিদের বাংলাদেশে আগমন ও প্রস্থান প্রক্রিয়া সহজ করা, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, পর্যটন খাতের বিকাশ, প্রযুক্তি ও জ্ঞান স্থানান্তর নিশ্চিত করা এবং জাতীয় নিরাপত্তা বজায় রেখে আধুনিক অভিবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
এর আগে ২ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে ২০০৬ সালের ভিসানীতি সংশোধনের খসড়া উপস্থাপন করা হয়। পরে নীতিমালা চূড়ান্ত করতে অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে কারিগরি ও প্রশাসনিক সহায়তা দিচ্ছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ইতোমধ্যে আধুনিক ও ডিজিটাল ভিসা ব্যবস্থা চালু হয়েছে। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে বাংলাদেশেও দ্রুত ও সহজ ভিসা সেবা চালুর প্রয়োজনীয়তা দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় রয়েছে।
এদিকে একই দিনে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর একটি প্রতিনিধি দল অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারের প্রধান লক্ষ্য দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ সংরক্ষণ করা এবং আইএমএফের সঙ্গে আলোচনাতেও সেই অবস্থান বজায় থাকবে।
সরকারের আশা, নতুন ভিসানীতি কার্যকর হলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি, পর্যটন শিল্পের সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক ব্যবসায় নতুন গতি সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।
জ/উ