
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের সশস্ত্র বাহিনী জনগণের সাহস, আস্থা ও গৌরবের প্রতীক। আধুনিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাহিনীগুলোকে যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতায় আরও সমৃদ্ধ করা হচ্ছে। রবিবার প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সুশৃঙ্খলতা ও পেশাদারিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে চলতি বছর পিজিআর ‘ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড’ পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছে। এ অর্জনের জন্য বাহিনীর সদস্যদের অভিনন্দন জানান তিনি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে বিশেষভাবে নির্বাচিত ও প্রশিক্ষিত সদস্যরা পিজিআরে দায়িত্ব পালন করেন। ফলে পেশাদারিত্ব, আনুগত্য ও শৃঙ্খলার সমন্বয়ে সদস্যরা অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবেন বলেই প্রত্যাশা করা হয়।
তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা দেশের ইতিহাসে গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে আছে। সেই ঐতিহ্য ধরে রেখে বাহিনীকে আরও দক্ষ ও আধুনিক হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।
তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে প্রচলিত নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি সাইবার যুদ্ধ, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার, ড্রোন প্রযুক্তি ও তথ্যযুদ্ধের মতো নতুন ধরনের হুমকি তৈরি হয়েছে। এসব বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পিজিআরসহ সব বাহিনীকে আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনগণের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও জনসম্পৃক্ততার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। নিরাপত্তা কৌশল এমনভাবে পরিচালনা করা প্রয়োজন, যাতে জনগণ নিজেদের সরকারপ্রধান থেকে বিচ্ছিন্ন মনে না করেন।
তিনি আরও বলেন, সরকার সশস্ত্র বাহিনীর পাশাপাশি পিজিআর ও এসএসএফের মতো বিশেষায়িত বাহিনীগুলোর আধুনিকায়নে বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। দেশপ্রেম, শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখলে দেশের সার্বভৌমত্ব আরও সুসংহত হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
পিজিআরের সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আধুনিক নিরাপত্তা কৌশল ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি সাহস, সততা, বিশ্বস্ততা, সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, নিয়মানুবর্তিতা এবং ‘চেইন অব কমান্ড’ অনুসরণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জ/উ