রোদ-ঝড়-বৃষ্টি নেই, পেটের দায়ে ভ্যান চালান ষাটোর্ধ রবিউল
পঞ্চগড় প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬, ৬:০৩ পিএম

দুপুরের তপ্ত রোদ আর প্রচন্ড দাবদাহে যখন জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘরের বাইরে বের হতে চাননা তখনও পেটের দায়ে ভ্যানগাড়ি নিয়ে রাস্তায় যাত্রীর অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন পঞ্চগড়ের আটোয়ারি উপজেলার সাতখামার এলাকার বাসিন্দা পয়ষট্টি পেরোনো বৃদ্ধ রবিউল ইসলাম।

রোদ, ঝড় কিংবা বৃষ্টি, প্রকৃতির কোনো প্রতিকূলতাই তাঁর কাছে বাধা নয়। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে যখন শরীর আর চলে না, তখনও কেবল পেটের তাগিদে প্রতিদিন সকালে ভ্যান গাড়ি নিয়ে রাস্তায় বেরিয়ে পড়তে হয় এই বৃদ্ধকে। বয়সের ভারে পিঠটা কিছুটা নুয়ে পড়েছে। হাত-পা কাঁপে অবশতায়। কিন্তু ঘরে অসুস্থ স্ত্রী আর ক্ষুধার্ত মুখের দিকে তাকিয়ে বিশ্রামের সুযোগ নেই তাঁর। যেখানে এই বয়সে এসে মানুষের একটু শান্তিতে ঘরে বসে সময় কাটানোর কথা, সেখানে রবিউল ইসলামকে জীবনযুদ্ধের কঠিন লড়াইয়ে নামতে হচ্ছে প্রতিদিন।

শনিবার (৪জুলাই) দুপুরে পঞ্চগড়-ঢাকা মহাসড়কের পাশে তাঁর সাথে কথা বলে জানা যায় এক করুণ বাস্তবতার গল্প। রবিউল ইসলাম বলেন, বাবা রোদ হোক আর ঝড়-বৃষ্টি, ঘরে বসে থাকলে তো পেটে ভাত জুটবে না। বয়স হয়েছে, শরীর আর আগের মতো সায় দেয় না। একটু বেশি দূর প্যাডেল মারলে বুকটা ধড়ফড় করে। তাও জীবিকার তাগিদে ভ্যান নিয়ে বের হতেই হয়। প্রতিদিন যা আয় হয়, তা দিয়ে কোনোমতে নুন-আনতে-পান্তা ফুরানোর মতো সংসার চলে। পরিবারে কে কে আছে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমার চার ছেলে সন্তান। সবাই বিয়ে করে আলাদা সংসার পেতেছে। তাদের সংসারেই নিত্য অভাব অনটন থাকে, বৃদ্ধ বাবা-মার ভার টানার সক্ষমতা নেই।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রবিউল চাচা অত্যন্ত পরিশ্রমী ও সৎ একজন মানুষ। এই বয়সেও তিনি কারও কাছে হাত না পেতে নিজের কায়িক শ্রমে উপার্জনের চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তবে বর্তমান বাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সামান্য ভ্যান চালিয়ে সংসার চালানো তাঁর পক্ষে দিন দিন অসম্ভব হয়ে পড়ছে।ষাটোর্ধ এই বৃদ্ধ ভ্যানচালকের একটাই আকুতি, যদি সরকারি কোনো টেকসই সহায়তা কিংবা কোনো মানবিক সংস্থা তাঁর পাশে দাঁড়াত, তবে জীবনের শেষ দিনগুলো হয়তো একটু শান্তিতে কাটানো সম্ভব হতো। 

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, রবিউলের মতো বয়োবৃদ্ধ ও সংগ্রামী মানুষদের জন্য বয়স্ক ভাতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সমাজ ও প্রশাসনের আরও এগিয়ে আসা উচিত

এদিকে, কয়েকদিনের ধারাবাহিক তাপদাহে পঞ্চগড়ের জনজীবনে স্থবির অবস্থা পরিলক্ষিত হয়েছে। বিশেষ করে কৃষক ও খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষ প্রচন্ড গরমে এক ঘন্টাও স্থায়ী হয়ে কাজ করতে পারছেনা। অতি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘরের বাইরে না আসায় ব্যবসা বাণিজ্য সহ খেটে খাওয়া মানুষের সংসারে মারাত্মক প্রভাব পরেছে। 

পঞ্চগড়ের বিভিন্ন হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে তীব্র গরমে রোগীর চাপ প্রায় দ্বিগুণ আকার ধারণ করেছে। আক্রান্তদের মধ্যে জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট এবং ডায়রিয়ার সমস্যায় ভোগা রোগীর সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি।

পঞ্চগড়ের সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান দৈনিক কালবেলাকে জানান, এই গরমে হিট স্ট্রোক হওয়ার আশংকা বেশী। বিশেষ করে  শিশুদের রোদে কম রেখে পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি পান ও বাইরের খাবার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

তেতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ বলেন, আজ তেঁতুলিয়ায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা থাকবে প্রায় ৩৬.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ২৫° সেলসিয়াস। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী আকাশ আংশিক মেঘলা এবং বজ্রবৃষ্টিসহ মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী কয়েকদিনের তাপমাত্রা ওঠানামা করবে।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft