কালো টাকা সাদা করার বিধান বাতিলের প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬, ৬:৫৬ পিএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের অর্থনীতিতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, করব্যবস্থাকে জনবান্ধব করা এবং দেশীয় শিল্প-বিনিয়োগে গতি আনতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব তুলে ধরেছেন। সোমবার জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব প্রস্তাব দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনৈতিক খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়েও সরকার কার্যকর উদ্যোগ নিতে চায়।

তিনি ব্যক্তি করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব করে বলেন, ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ কর বছরের জন্য করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকার পরিবর্তে ৪ লাখ টাকা করা উচিত। এছাড়া ২০২৮-২৯ ও ২০২৯-৩০ কর বছরের জন্য তা ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ২০৩০-৩১ কর বছরে ৫ লাখ টাকা করার প্রস্তাব দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী কালো টাকা সাদা করার বিদ্যমান বিধান প্রত্যাহারের বিষয়েও অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তার মতে, স্বচ্ছ ও ন্যায়ভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তুলতে কর ব্যবস্থায় আস্থা বাড়ানো প্রয়োজন।

উচ্চশিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর আরোপিত ১০ শতাংশ কর কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেন। একই সঙ্গে এসব বিশ্ববিদ্যালয়কে গবেষণা কার্যক্রম জোরদার, ভাষা শিক্ষার জন্য আধুনিক ল্যাব স্থাপন এবং মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ বাড়ানোর আহ্বান জানান।

এ সময় সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন প্রস্তাবকে স্বাগত জানান।

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পার্বত্য তিন জেলার পাশাপাশি সমতল অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বেতনভিত্তিক আয়ও করমুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।

দেশীয় শিল্পের বিকাশে তিনি বিভিন্ন খাতের জন্য শুল্ক ও ভ্যাট সুবিধা দেওয়ারও প্রস্তাব করেন। চিংড়ি শিল্পের বিকাশে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহার, ওষুধ ও স্থানীয় শিল্পে ব্যবহৃত মধু আমদানিতে সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার এবং পিভিসি ও পেট রেজিন আমদানিতে শুল্ক কমানোর প্রস্তাব দেন তিনি।

এছাড়া স্থানীয় শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে রেয়াতি সুবিধা বাড়ানো, বৈদ্যুতিক তার উৎপাদনে ব্যবহৃত রিফাইন কপার আমদানিতে রেগুলেটরি শুল্ক প্রত্যাহার এবং এলইডি ল্যাম্প ও প্রি-ফ্যাব্রিকেটেড বিল্ডিং উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সুবিধা ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাবও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

ব্যবসাবান্ধব ভ্যাট কাঠামোর বিষয়ে তিনি স্বর্ণ, ডায়মন্ড ও রৌপ্য অলংকারের ভ্যাট পুনর্নির্ধারণ, বিটিআরসির রেভিনিউ শেয়ারিংয়ের ওপর আরোপিত ১৫ শতাংশ ভ্যাট এবং মাছ সরবরাহের জোগানদার পর্যায়ের ১০ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহারের প্রস্তাব করেন।

একই সঙ্গে স্থানীয়ভাবে ডাবল কেবিন পিকআপ ও মাইক্রোবাস উৎপাদনে ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, তরুণ উদ্যোক্তা ও ফ্রিল্যান্সারদের উৎসাহিত করতে এবারের বাজেটে প্রথমবারের মতো ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ ফান্ড গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তার মতে, নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য এটি দেশের উদ্ভাবন ও কর্মসংস্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জ/উ

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft