প্রকাশ: সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬, ৬:৪৫ পিএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, পূর্ববর্তী সরকারের সময় নেওয়া অপরিকল্পিত ও লোকদেখানো প্রকল্পের কারণে সৃষ্ট বৈদেশিক ঋণের চাপ এখন দেশের অর্থনীতির জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এই পরিস্থিতিকে অজুহাত না বানিয়ে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কার্যকর নীতির মাধ্যমে সংকট মোকাবিলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।
সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের সময় সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পেয়েছিল। দুর্নীতি, অনিয়ম ও ভুল নীতির কারণে অর্থনৈতিক খাত চাপে পড়ে যায়। তিনি বলেন, অতীতে এমন কিছু প্রকল্পে দেশি-বিদেশি ঋণ নেওয়া হয়েছিল যেগুলো থেকে প্রত্যাশিত রাজস্ব আসছে না। ফলে এখন বাড়তি অর্থ ব্যয় করে সেই ঋণ পরিশোধ করতে হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, অতীতে বিপুল অর্থ পাচার, পুঁজিবাজারে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকট দেশের অর্থনীতিকে কঠিন অবস্থায় নিয়ে গিয়েছিল। টাকার মানও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। তবে সরকার এসব বাস্তবতা স্বীকার করলেও সংকটকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করতে চায় না।
তারেক রহমান বলেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়েই রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে সরকার। তিনি বলেন, দেশের স্বার্থ ও জনগণের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়েই এবারের বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।
উন্নয়নের ব্যাখ্যায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেবল জিডিপি প্রবৃদ্ধি নয়, সাধারণ মানুষের জীবনমানের উন্নয়নই প্রকৃত অগ্রগতি। তরুণদের কর্মসংস্থান, কৃষকের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। পাশাপাশি আমানতকারীদের অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
জ/উ