
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী টানেল পরিচালনায় বর্তমানে আয় অপেক্ষা ব্যয় বেশি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, টানেল থেকে মাসিক যে পরিমাণ টোল আদায় হচ্ছে, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে তার প্রায় দ্বিগুণ ব্যয় হচ্ছে।
সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসনাতের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
মন্ত্রী জানান, কর্ণফুলী টানেল থেকে প্রতি মাসে গড়ে ৩ কোটি ৩৬ লাখ ৫১ হাজার ৯০০ টাকা টোল আদায় হয়। বিপরীতে পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয় হয় প্রায় ৬ কোটি ৯৫ লাখ ১৮ হাজার ৬৯১ টাকা।
তিনি বলেন, টানেলের নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন পরিচালনার জন্য সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহ, আলোকসজ্জা, বায়ু চলাচল ব্যবস্থা, অগ্নিনিরাপত্তা, সিসিটিভি নজরদারি ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবা চালু রাখতে হয়। এসব কারণে পরিচালন ব্যয় তুলনামূলক বেশি।
তবে সরকারের কৃচ্ছ্রসাধন নীতি ও সেতু কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে ব্যয় কিছুটা কমানো সম্ভব হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, শুরুতে দৈনিক পরিচালন ব্যয় ছিল প্রায় ৩৭ লাখ টাকা, যা বর্তমানে কমিয়ে ২২ থেকে ২৩ লাখ টাকায় আনা হয়েছে। টানেলকে আরও কার্যকর ও লাভজনক করতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে রাজধানীর যানজট নিরসনে বিমানবন্দর থেকে গাজীপুরের শিববাড়ী পর্যন্ত দেশের প্রথম বিআরটি (বাস র্যাপিড ট্রানজিট) চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান সড়কমন্ত্রী। তিনি বলেন, ২০ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই করিডর উন্নত করে জনগণের সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে।
এছাড়া ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে বলেও জানান তিনি। প্রস্তাবিত নীতিমালায় নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা, চালকদের লাইসেন্স নিশ্চিত করা এবং নির্দিষ্ট রুট নিয়ন্ত্রণের বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, যেসব যানবাহনের ফিটনেসের মেয়াদ ১০ বছর আগে শেষ হয়েছে এবং নবায়ন হয়নি, সেগুলোর নিবন্ধন বাতিল ও সড়ক থেকে অপসারণ করা হচ্ছে। এছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ অন্যান্য যানবাহনের তালিকা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং মালিকদেরও নোটিশ দেওয়া হচ্ছে।
দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণ প্রসঙ্গে তিনি জানান, সম্ভাব্যতা সমীক্ষার জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং শিগগিরই চুক্তি স্বাক্ষর হবে।