প্রকাশ: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৭:৩০ পিএম

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন একটি জটিল, সংবেদনশীল ও বহুমাত্রিক আন্তর্জাতিক ইস্যু উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, এর অগ্রগতি অনেকাংশে নির্ভর করছে মিয়ানমারের সদিচ্ছা, রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকার ওপর।
বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাখাইন রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলমান সংঘাত ও অস্থিতিশীলতার কারণে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী কোনো শরণার্থীকে অনিরাপদ পরিবেশে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো সম্ভব নয়।
তিনি জানান, বাংলাদেশ সরকার রাখাইনে স্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে মিয়ানমার সরকার ও আরাকান আর্মির মধ্যে কার্যকর সংলাপের পরিবেশ তৈরির বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
ড. খলিলুর রহমান বলেন, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য সরকারের প্রস্তুতি অব্যাহত রয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রত্যাবাসনের কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারের কঠোর নজরদারি ও বিশেষ টাস্কফোর্সের অভিযানের ফলে অপরাধ প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ক্যাম্পে ৬৬টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেও ২০২৪ সালে তা কমে ৪৯টিতে এবং ২০২৫ সালে ৩৫টিতে নেমে আসে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা ছিল মাত্র ৬টি।
সংসদকে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গার সংখ্যা ১১ লাখ ৮৯ হাজার ২১৩ জন। এ পর্যন্ত ৮ লাখ ২৯ হাজার ৩৩৬ জন রোহিঙ্গার তথ্য যাচাইয়ের জন্য মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ২০২৬ সালের জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান (জেআরপি) এর আওতায় রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তার জন্য ৯১০ দশমিক ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তা চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ২৯১ মিলিয়ন ডলার পাওয়া গেছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের একটি স্থায়ী ও কার্যকর সমাধান নিশ্চিত করে তাদের নিজ দেশে নিরাপদ প্রত্যাবাসনই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। তিনি এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও মিয়ানমারের ইতিবাচক ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
জ/উ