
বাংলাদেশের সঙ্গে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সম্প্রসারণ ও শক্তিশালী করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে নেপাল। দেশটির প্রতিনিধি সভার স্পিকার ডোল প্রসাদ আরিয়াল বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে বাণিজ্য, জ্বালানি, শিক্ষা, পর্যটন এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
বুধবার (১৭ জুন) কাঠমান্ডুতে স্পিকারের কার্যালয়ে নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমান সৌজন্য সাক্ষাৎ করলে এ আগ্রহের কথা জানান তিনি।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত শফিকুর রহমান নেপালের স্পিকারকে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান এবং বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকারের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন বার্তা পৌঁছে দেন। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট অব দ্য জেনারেল অ্যাসেম্বলি (পিজিএ) নির্বাচনে বাংলাদেশের প্রার্থিতার প্রতি নেপালের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বৈঠকে রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ ও নেপালের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের পারস্পরিক শ্রদ্ধা, অভিন্ন মূল্যবোধ এবং জনগণের মধ্যে দৃঢ় যোগাযোগের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। তিনি দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে জ্বালানি, বাণিজ্য, পর্যটন, কৃষি, শিক্ষা, খাদ্য নিরাপত্তা, নারীর ক্ষমতায়ন ও যুব উন্নয়ন খাতে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের আহ্বান জানান।
তিনি দক্ষিণ এশিয়ায় বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন এবং সার্ক ও বিমসটেকসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ ব্যক্ত করেন।
নেপালের স্পিকার বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রশংসা করে বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিজ্ঞতা নেপালের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষার উৎস হতে পারে। তিনি খেলাধুলা, পর্যটন ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর করার ওপর গুরুত্ব দেন।
বৈঠকে জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত ঝুঁকির বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। স্পিকার বলেন, হিমালয় অঞ্চল ও উপকূলীয় এলাকার পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য একটি যৌথ উদ্বেগের বিষয়। এ ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
এছাড়া বাংলাদেশে অধ্যয়নরত নেপালি শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি ও শিক্ষা-সুবিধা প্রদানে বাংলাদেশের অব্যাহত সহযোগিতার প্রশংসা করেন নেপালের স্পিকার।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই বৈঠক দুই দেশের মধ্যকার বহুমাত্রিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
জ/উ