নবায়নযোগ্য জ্বালানির সুবিধা সীমিত গোষ্ঠীতে কেন্দ্রীভূত : বিএসআরইএ
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: রোববার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৩:৩৭ পিএম

জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭-এ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে কর ও শুল্ক সুবিধা ঘোষণার পর ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি হলেও বাস্তবে এসব সুবিধা সীমিতসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআরইএ)।

রোববার রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) জারি করা সংশ্লিষ্ট এসআরও বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ঘোষিত সুবিধাগুলো মূলত নির্দিষ্ট কিছু সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এবং রেসকো (RESCO) মডেলের আওতায় বিদ্যুৎ সরবরাহকারী কোম্পানিগুলোর জন্য প্রযোজ্য করা হয়েছে। ফলে আবাসিক, কৃষি, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং সৌরবিদ্যুৎ খাতের বৃহৎ অংশের অংশীজনরা এর বাইরে থেকে যাচ্ছেন।

সংগঠনটির মতে, দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি বাজারের বড় অংশ পরিচালিত হয় আমদানিকারক, পরিবেশক, ডিলার, খুচরা ব্যবসায়ী, ইপিসি (ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রকিউরমেন্ট অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন) প্রতিষ্ঠান এবং নিজস্ব অর্থায়নে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনকারী গ্রাহকদের মাধ্যমে। কিন্তু বর্তমান প্রণোদনা কাঠামোয় তাদের জন্য কার্যকর সুবিধা অন্তর্ভুক্ত হয়নি।

বিএসআরইএ দাবি করে, বর্তমান কাঠামোতে সীমিতসংখ্যক প্রতিষ্ঠান সুবিধা পেলেও খাতসংশ্লিষ্ট হাজারো ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তার ব্যবসা এবং কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে দেশের বৃহত্তর সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারকারী শ্রেণি ঘোষিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, সাধারণ মানুষের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছে যে সৌর প্যানেল ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতির ওপর শুল্ক পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে বাস্তবে অধিকাংশ সৌরপণ্যের ক্ষেত্রে বিদ্যমান শুল্ক ও কর কাঠামোয় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি। ফলে বাজারে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে এবং ব্যবসায়ীরা নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছেন।

সংগঠনটির নেতারা বলেন, সোলার সেচ, সোলার স্ট্রিট লাইট এবং ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম (বিইএসএস) খাতের জন্য বাজেটে নতুন কোনো কার্যকর প্রণোদনা রাখা হয়নি। দেশে বিপুলসংখ্যক ডিজেলচালিত সেচ পাম্প সৌরচালিত ব্যবস্থায় রূপান্তরের সম্ভাবনা থাকলেও সে বিষয়ে সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা বা আর্থিক সহায়তার প্রতিফলন দেখা যায়নি।

বিএসআরইএ আরও জানায়, নবায়নযোগ্য জ্বালানি সরঞ্জামের মূল্যায়নে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ‘ট্রানজ্যাকশন ভ্যালু’ পদ্ধতি চালুর বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগের অভাব রয়েছে। এর ফলে আমদানি ব্যয় এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে তারা মনে করে।

সংগঠনটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দেশের মোট বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীর বড় অংশই আবাসিক, কৃষি ও ক্ষুদ্র বাণিজ্যিক খাতের গ্রাহক। তবে বর্তমান প্রণোদনা কাঠামোয় তাদের জন্য সরাসরি কোনো সুবিধা নেই। পাশাপাশি স্বল্পসুদে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন, বিনিয়োগ সুরক্ষা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত নতুন উদ্যোগও বাজেটে অনুপস্থিত বলে উল্লেখ করা হয়।

বিএসআরইএ সতর্ক করে বলেছে, বিদ্যমান নীতিগত কাঠামো অপরিবর্তিত থাকলে ২০৩০ সালের মধ্যে নির্ধারিত সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার লক্ষ্য অর্জন কঠিন হতে পারে। এ কারণে তারা এসআরও পুনর্বিবেচনা করে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের সব অংশীজনের জন্য সমতাভিত্তিক কর ও শুল্ক সুবিধা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বিএসআরইএ সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ, সিনিয়র সহ-সভাপতি জাহিদুল আলম, সহ-সভাপতি এম এ তাহের, সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. রুহুল আমিন, সাধারণ সম্পাদক মো. আতাউর রহমান সরকার রোজেলসহ সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

জ/উ

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft