প্রকাশ: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ২:১২ পিএম

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান তার বিরুদ্ধে অতীতে ওঠা ঋণখেলাপি সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন। ব্যাংক খাতের বর্তমান তারল্য পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে তিনি এ বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।
গতকাল শুক্রবার (১২ জুন) এক অনুষ্ঠানে গভর্নর বলেন, তিনি যে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সেটি একটি স্বীকৃত গ্রিন ফ্যাক্টরি ছিল। প্রকল্পটির জন্য প্রাথমিকভাবে স্বল্প সুদের একটি বিশেষ তহবিলের আওতায় ঋণ অনুমোদিত হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে সেই তহবিল শেষ হয়ে যাওয়ায় তুলনামূলক বেশি সুদে অর্থায়নের বিষয় সামনে আসে, যা প্রকল্পের আর্থিক পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলে।
মোস্তাকুর রহমান বলেন, সুদের হার পরিবর্তন, কোভিড-১৯ মহামারি এবং অন্যান্য ব্যবসায়িক চ্যালেঞ্জের কারণে ঋণ পরিশোধে কিছু বিলম্ব হয়েছিল। তবে বিলম্বিত পরিশোধ এবং ঋণখেলাপি হওয়া এক বিষয় নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
গভর্নরের দাবি, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি কখনো উৎপাদন বা রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ করেনি এবং শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন প্রদানে কোনো দীর্ঘমেয়াদি ব্যত্যয় ঘটেনি। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি ব্যাংকের কাছে কোনো ঋণ মওকুফের আবেদনও করেনি। বরং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ঋণ পরিশোধ করেছে বলে তিনি জানান।
তিনি বলেন, কোনো অভিযোগ বারবার প্রচারিত হলে অনেক সময় সেটি বাস্তবতার চেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়। তবে প্রকৃত তথ্য যাচাই করাই গুরুত্বপূর্ণ।
অনুষ্ঠানে অর্থপাচার ও পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়েও কথা বলেন গভর্নর। তিনি জানান, আন্তর্জাতিকভাবে পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারের হার তুলনামূলক কম এবং এ ধরনের মামলার নিষ্পত্তি দীর্ঘ সময়সাপেক্ষ।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক অভিজ্ঞতায় পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার হার প্রায় ২ শতাংশ এবং এ ধরনের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে সাধারণত ৭ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
জ/উ