প্রকাশ: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৮:৩৮ পিএম

চামড়া ক্রয়ে ধীর গতি পরিলক্ষিত হলে প্রয়োজনে সরকার ওয়েট ব্লু চামড়া রপ্তানির অনুমতি দিবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বুধবার দুপুরে সিলেটের চা শ্রমিকদের সাথে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। প্রান্তিক চামড়া সংগ্রহকারীরা যাতে ন্যায্য মূলে পায় সেজন্য সরকারের নজরদারী থাকবে, প্রয়োজনে সরকার হস্তক্ষেপ করবে বলেও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।
এর আগে মন্ত্রী সিলেট সার্কিট হাউসে চামড়া ব্যবসায়ীদের সাথে মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘দেশের চামড়া শিল্পের বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধান করে এই খাতকে একটি মাল্টি-বিলিয়ন ডলারের সম্ভাবনাময় রপ্তানি খাতে পরিণত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সেজন্য সকল অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে বৈঠক করে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘সাভারে অবস্থিত সেন্ট্রাল এফলুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের (সিইটিপি) কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে বিশ্বব্যাংক ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায় ইতালীয় একটা কোম্পানি সমীক্ষা চালাচ্ছে। ঈদের দুই সপ্তাহের তাদের রিপোর্ট পাওয়া যাবে।’
চামড়া শিল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সিইটিপির বর্তমান দৈনিক পরিশোধন ক্ষমতা ১৪ থেকে ১৭ হাজার কিউবিক মিটার। এটিকে প্রজেক্টেড ক্যাপাসিটি অনুযায়ী ২৫ হাজার কিউবিক মিটারে উন্নীত করা হবে। হাজারীবাগ থেকে সাভারে স্থানান্তরের সময় যে সমস্ত ট্যানারি ক্ষতির মুখে পড়ে সচল হতে পারেনি, সেগুলোর মধ্যে সম্ভাবনাময় প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরায় অর্থায়নের মাধ্যমে ব্যবসায় ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। একইসঙ্গে চামড়া খাতে দেশি-বিদেশি নতুন উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে আকৃষ্ট করতে সরকার কাজ করছে।’
চামড়া ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, ‘কোরবানির পশুর চামড়া দেশের বড় সম্পদ। যদি আমরা এই চামড়া যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে পারি, তবে সারা বছর বিদেশে চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি করা সম্ভব হবে।’
সিলেটসহ সারা দেশের চামড়া ব্যবসায়ীদের পাওনা টাকা আদায় প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সরকার ও ব্যবসায়ী অ্যাসোসিয়েশনগুলো সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করছে। পাওনা টাকা যাতে ব্যবসায়ীরা ফেরত পান সেই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
সভায় শাহজালালের চামড়া ব্যবসায়ী বহুমুখী সমিতির নেতৃবৃন্দ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম, মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদি ও সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী প্রমুখ।