
বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশকে ২৩টি খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের প্রস্তাব দিয়েছে চীন। চলতি মাসে প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন চীন সফরে এ বিষয়ে একটি সমঝোতা চুক্তি (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।
চীনের জাতীয় উন্নয়ন ও সংস্কার কমিশনের (এনডিআরসি) খসড়া সহযোগিতা পরিকল্পনায় অবকাঠামো ছাড়াও বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জ্বালানি, ডিজিটাল অর্থনীতি, কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, সবুজ উন্নয়ন, সামুদ্রিক সহযোগিতা এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা—সহ বিস্তৃত খাতে সহযোগিতার কথা বলা হয়েছে।
সম্প্রতি “বাংলাদেশ-চীন যৌথ বিআরআই সহযোগিতা পরিকল্পনা” শীর্ষক খসড়া নথি ঢাকায় চীনা দূতাবাসের মাধ্যমে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। নথিটি দ্রুত পর্যালোচনা ও অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোতে পাঠানো হয়েছে, যাতে প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগেই চুক্তি চূড়ান্ত করা যায়।
খসড়া অনুযায়ী, ২০১৬ সালে শি জিনপিংয়ের ঢাকা সফরে স্বাক্ষরিত বিআরআই কাঠামোর ভিত্তিতেই নতুন এই সহযোগিতা পরিকল্পনা তৈরি হয়েছে। এতে পারস্পরিক লাভ, উন্মুক্ততা ও টেকসই উন্নয়নকে মূল নীতি হিসেবে ধরা হয়েছে।
বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ডিজিটাল অর্থনীতিকে। বাংলাদেশকে “বেল্ট অ্যান্ড রোড আন্তর্জাতিক ডিজিটাল অর্থনীতি সহযোগিতা উদ্যোগ”-এ যুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি ক্লাউড কম্পিউটিং, তথ্য ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নে যৌথ কাজের পরিকল্পনাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
খসড়ায় তিস্তা প্রকল্পের সরাসরি উল্লেখ না থাকলেও পানি সম্পদ, আঞ্চলিক উন্নয়ন ও অবকাঠামো সহযোগিতার বিষয় রাখা হয়েছে। ফলে সফরের সময় এ নিয়ে আলাদা আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এছাড়া বাংলাদেশকে চীনের বিভিন্ন বাণিজ্য মেলা ও প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা, গবেষণা, স্বাস্থ্যসেবা, চিকিৎসা প্রযুক্তি ও ওষুধশিল্পেও সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয় খসড়ায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিআরআই এখন শুধু অবকাঠামো নির্ভর নয়, বরং ডিজিটাল ও প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়নকেও গুরুত্ব দিচ্ছে। এতে বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
জ/দি