প্রকাশ: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ১২:৪০ পিএম

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে নতুন মূল্যহার ঘোষণা করেছে সরকার। তবে নিম্ন আয়ের গ্রাহকদের স্বস্তি দিতে আবাসিক লাইফ লাইন ও প্রথম ধাপের গ্রাহকদের জন্য বিদ্যুতের আগের দাম বহাল রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত রেখে অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম বাড়ানো হয়েছে। শনিবার (৬ জুন) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানানো হয়।
ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) গত ২০ ও ২১ মে গণশুনানি আয়োজন করে। পরে বিদ্যুতের পাইকারি, সঞ্চালন ও খুচরা মূল্যহার পুনর্নির্ধারণ করা হয়।
তবে আবাসিক লাইফ লাইন (০-৫০ ইউনিট) এবং আবাসিক প্রথম ধাপের (০-৭৫ ইউনিট) গ্রাহকদের জন্য বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন জানায় বিতরণ সংস্থাগুলো। শুনানি শেষে এই দুই শ্রেণির গ্রাহকদের জন্য আগের ট্যারিফ বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সরকার জানিয়েছে, দেশের প্রায় ৬৫ শতাংশ বিদ্যুৎ গ্রাহক এই দুই শ্রেণির আওতায় রয়েছেন। ফলে বিপুলসংখ্যক নিম্ন আয়ের পরিবার মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব থেকে রক্ষা পাবে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের গড় দাম প্রায় ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ, খুচরা পর্যায়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ এবং সঞ্চালন চার্জ ২৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের পাইকারি গড় মূল্য ৭ টাকা থেকে বেড়ে ৮ টাকা ৩৯ পয়সা এবং খুচরা গড় মূল্য ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে বেড়ে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা হয়েছে। জুন মাস থেকেই নতুন হার কার্যকর হয়েছে।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবের কারণে জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে সরকার। নতুন দামে ডিজেল প্রতি লিটার ১১৫ টাকায় অপরিবর্তিত থাকলেও কেরোসিন ১৩৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ টাকা এবং অকটেন ১৪৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সরকারের ভাষ্য, গণপরিবহন ও পণ্য পরিবহনে প্রধানত ডিজেল ব্যবহৃত হওয়ায় এর দাম অপরিবর্তিত রাখার ফলে পরিবহন ব্যয় ও নিত্যপণ্যের বাজারে অতিরিক্ত চাপ পড়ার আশঙ্কা কম থাকবে। অন্যদিকে পেট্রোল ও অকটেনের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব তুলনামূলকভাবে সীমিত থাকবে, কারণ এগুলো মূলত ব্যক্তিগত যানবাহনে ব্যবহৃত হয়।
সরকার ২০২৪ সালের মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি চালু করেছে। এর আওতায় আমদানি ব্যয়ের ভিত্তিতে প্রতি মাসে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়।
জ/উ