![]() |

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানী ছেড়ে বাড়ির পথে ছুটছেন লাখো মানুষ। ঘরমুখী যাত্রীদের চাপে বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র ভিড়। তবে ঈদযাত্রার আনন্দ অনেক ক্ষেত্রেই পরিণত হয়েছে দুর্ভোগে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, যানজট এবং ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।
রাজধানীর গাবতলী, সায়েদাবাদ ও মহাখালী বাস টার্মিনালে সকাল থেকেই ছিল যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। দুপুরের পর অফিস-আদালত ছুটি হলে ভিড় আরও বেড়ে যায়। অনেক যাত্রী অভিযোগ করেন, দীর্ঘ অপেক্ষার পরও সময়মতো বাস পাওয়া যাচ্ছে না। সুযোগ বুঝে অনেক পরিবহন নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে দ্বিগুণ বা তিনগুণ পর্যন্ত ভাড়া আদায় করছে। উত্তরাঞ্চলগামী যাত্রীরা জানান, সাধারণ সময়ে ৮০০ টাকার ভাড়া এখন ১৫০০ থেকে ১৮০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।
সড়কপথের দুর্ভোগ এড়াতে অনেকে ট্রেনে যাত্রা করলেও সেখানেও দেখা দিয়েছে শিডিউল বিপর্যয়। কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় সকাল থেকেই ছিল যাত্রীদের ব্যাপক চাপ। বিভিন্ন আন্তনগর ট্রেন নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে ছেড়ে যাওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অপারেশনাল জটিলতা ও কিছু এলাকায় লাইনের ওপর খড় শুকানোর কারণে ট্রেন ধীরগতিতে চলাচল করছে।
এদিকে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ঘিরেও ছিল ঘরমুখী মানুষের ভিড়। বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী ও চাঁদপুরগামী লঞ্চগুলোতে যাত্রীচাপ ছিল তুলনামূলক বেশি। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টার্মিনাল এলাকায় পুলিশ, নৌপুলিশ ও আনসার সদস্যদের টহল জোরদার করা হয়েছে।
অন্যদিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল, ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে গাজীপুরের চন্দ্রা, ভোগড়া, নবীনগর এবং মেঘনা সেতু এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতে দেখা গেছে যানবাহনকে। অতিরিক্ত গাড়ির চাপ ও চলমান সড়ক উন্নয়নকাজের কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে মহাসড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও যাত্রী হয়রানি ঠেকাতে নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
জ/দি
| « পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ » |