ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে সমঝোতায় যেতে এবং কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দিতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ফোয়াদ ইজাদি। তবে এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রকে নিষেধাজ্ঞা শিথিলসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে হবে বলেও স্পষ্ট করেছেন তিনি।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইজাদি বলেন, অতীতেও ইরান এমন সমঝোতায় অংশ নিয়েছিল এবং ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তিই তার বড় উদাহরণ।
তিনি বলেন, ২০১৫ সালের জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন (জেসিপিওএ) অনুযায়ী ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশে সীমাবদ্ধ রাখতে সম্মত হয়েছিল, যা দিয়ে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি সম্ভব নয়।
ইজাদি জানান, ওই চুক্তির আওতায় আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর ব্যাপক পরিদর্শন ব্যবস্থাও কার্যকর ছিল, যাতে ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা যায়।
তার ভাষায়, “পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা সম্ভব এবং এ বিষয়ে ইরান নমনীয় অবস্থান নিতে প্রস্তুত।”
তিনি আরও বলেন, যদি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মূল লক্ষ্য হয় ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা, তাহলে সেই কাঠামো আগেই তৈরি হয়েছিল।
তবে যেকোনও নতুন সমঝোতার ক্ষেত্রে ইরানের প্রধান শর্ত হচ্ছে-যুক্তরাষ্ট্রকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে হবে এবং জব্দ বা স্থগিত থাকা ইরানের সম্পদ মুক্ত করতে হবে।
ইজাদি বলেন, “তেহরানের প্রত্যাশা এটিই,” এবং এসব বিষয়কে সম্ভাব্য চুক্তির কেন্দ্রীয় অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সাম্প্রতিক অবস্থান থেকে বোঝা যাচ্ছে, তেহরান এখনও কূটনৈতিক সমাধানের পথ পুরোপুরি বন্ধ করেনি। তবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত না হলে নতুন কোনও সমঝোতায় পৌঁছানো কঠিন হবে।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ঐতিহাসিক জেসিপিওএ চুক্তি থেকে ২০১৮ সালে ট্রাম্প প্রশাসন সরে যাওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়। এরপর থেকেই ইরান ধাপে ধাপে চুক্তির বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা থেকে সরে আসতে শুরু করে।
বর্তমানে আনুষ্ঠানিক আলোচনা না চললেও উভয় পক্ষের বক্তব্যে নতুন করে কূটনৈতিক সমঝোতার ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়ে উঠছে। সূত্র: আল-জাজিরা
জ/উ