কেন্দুয়ায় উচ্চ বিদ্যালয়ের ভবনে অনুমোদনহীন কিন্ডারগার্টেন, এলাকায় চাঞ্চল্য
নেত্রকোণা প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ৪:১১ পিএম

নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলায় একটি এমপিওভুক্ত উচ্চ বিদ্যালয়ের ভবনে অনুমোদনহীনভাবে কিন্ডারগার্টেন পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি সামনে আসার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, একদিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থী সংকটে ভুগছে, অন্যদিকে নামে-বেনামে যত্রতত্র গড়ে উঠছে কিন্ডারগার্টেন। এর মধ্যে অনেক প্রতিষ্ঠানই চলছে কোনো ধরনের সরকারি অনুমোদন ছাড়াই, যা শিক্ষা ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে।

সরে জমিনে দেখা যায়, উপজেলার দলপা ইউনিয়নের রামনগর উচ্চ বিদ্যালয় ভবনে ‘নতুন কুঁড়ি কিন্ডারগার্টেন’ নামে একটি শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ভোর থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত এই কার্যক্রম চালান খন্দকার সোহাগ নামে এক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক।

আরও পড়ুন : আয় বাড়লেও উন্নয়নে চরম অবহেলা, দুর্ভোগে পীরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের যাত্রীরা

গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষ দ্রুত শিক্ষার্থীদের ছুটি দিয়ে দেয়। পরে কথা হলে খন্দকার সোহাগ জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে এই কিন্ডারগার্টেন পরিচালনা করছেন। এখানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা আশপাশের বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি রয়েছে এবং সেখান থেকেই তারা প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নেয়।

তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীরা সকালে এখানে পড়ে। এখানে যা করা হয়, সবই অনানুষ্ঠানিকভাবে করা হয়। এই প্রতিষ্ঠানের কোনো অনুমোদন বা কাগজপত্র নেই, এমনকি পরিচালক হিসেবে আমারও কোনো লিখিত স্বীকৃতি নেই।”

একটি এমপিওভুক্ত উচ্চ বিদ্যালয়ের ভবনে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে জানতে চাইলে রামনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা জাকিয়া সুলতানা বলেন, “অনেক আগে স্কুলের ব্যবস্থাপনা কমিটি মৌখিকভাবে তাদের অনুমতি দিয়েছিল বলে শুনেছি। তবে এ বিষয়ে কোনো লিখিত অনুমোদন নেই। আমি তাদের কার্যক্রম বন্ধ করতে অথবা সরকারি অনুমোদন নিতে বলেছি।”

আরও পড়ুন : গোয়াইনঘাটে ফোর্স মবিলাইজেশন ড্রিল ও চেকপোস্টসহ সপ্তাহ ব্যাপী ওয়ারেন্ট তামিল অভিযান

তিনি আরও বলেন, “পঞ্চম শ্রেণি থেকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হওয়া অনেক শিক্ষার্থী পরবর্তীতে আমাদের বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়, যা আমাদের জন্য কিছুটা সুবিধাজনক।”

এ বিষয়ে কেন্দুয়া সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কাশেম বলেন, “উচ্চ বিদ্যালয়ে কিন্ডারগার্টেন পরিচালনার বিষয়ে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই অবৈধভাবে পরিচালিত এমন শিক্ষা কার্যক্রমের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

জ/উ

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft