
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২০ এপ্রিল প্রথমবারের মতো তাঁর নিজ জেলা বগুড়া সফরে আসছেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তাঁর প্রথম বগুড়া সফর। তারেক রহমানের সফরকে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে ইতিমধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। প্রায় দুই দশক পর পৈতৃক ভিটায় তার এই সফরকে ঘিরে জেলাজুড়ে বইছে উসৎসবের আমেজ। ঘরের ছেলে প্রধানমন্ত্রী হয়ে ফিরছেন এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সাধারণ জনগণ ও দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। জেলাজড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। নানা প্রত্যাশা নিয়ে অপেক্ষায় আছেন স্থানীরা।
এই সফরকে কেন্দ্র করে গাবতলীর বাগবাড়ীতে পৈতৃক ভিটা পরিদর্শন, বগুড়া সিটি কর্পোরেশন উদ্বোধন, ই-বেইলবন্ড কার্যক্রমের সূচনা, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ এবং আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জনসভাসহ দিনব্যাপী নানা আয়োজনে সাজসাজরব চলছে। শহরজুড়ে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা, রংসহ দৃষ্টিনন্দন করা হচ্ছে বগুড়া পৌরসভা, সার্কিট হাউস এবং বাগবাড়ির জিয়া বাড়ি। স্থানীয় প্রশাসন নিরাপত্তাসহ সার্বিক প্রস্তুতি জোরদার করেছে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টায় বগুড়া সার্কিট হাউজে আয়োজিত সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরকারি এই সফরে তাঁর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও সফরসঙ্গী থাকবেন।
জানা যায়, ২০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী নিজ বাসভবন থেকে সকাল ৬টায় সড়ক পথে ঢাকা থেকে বগুড়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন। সকাল সাড়ে ১০টায় বগুড়া সার্কিট হাউসে উপস্থিত হওয়ার পর বেলা ১১ টায় তিনি জেলা ও দায়রা জজ আদালতে নবনির্মিত আইনজীবী সমিতির ভবন উদ্বোধন এবং ই-বেইলবন্ড কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করবেন।
এরপর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রধানমন্ত্রী বগুড়া পৌরসভায় উপস্থিত হয়ে নবসৃষ্ট বগুড়া সিটি কর্পোরেশন এর ফলক উন্মোচন করবেন। দুপুর পৌনে ১টায় বাগবাড়ীতে উপস্থিত হয়ে তিনি জিয়াউর রহমান গ্রাম হাসপাতালে জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন এর উদ্বোধন এবং শহীদ জিয়া ডিগ্রী কলেজ মাঠে আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে যোগদান করবেন। দুপুর পৌনে ২টায় নশিপুরে চৌকিরদহ খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এঁর পৈতৃক বাড়ি পরিদর্শন করবেন। এরপর বিকেল ৪ টায় প্রধানমন্ত্রী আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে বগুড়া জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন। জনসভা শেষে তিনি বিকেল পৌনে ৬টায় বগুড়া প্রেসক্লাবের নতুন ভবন এবং বাইতুর রহমান কেন্দ্রীয় মসজিদের পুনঃনির্মাণ কাজের উদ্বোধন করবেন।
উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী সন্ধ্যা ৬টায় ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরটি সম্পূর্ণ সরকারি সফর। তাঁর সফরসঙ্গী হিসেবে ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ উপস্থিত থাকবেন। সফরকে কেন্দ্র করে বগুড়া জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এছাড়া এই সফরকে ঘিরে বগুড়া পৌরসভা ও সার্কিট হাউসে রংসহ দৃষ্টিনন্দন এর কাজ করা হয়েছে। শহরের বিভিন্ন সড়কে চলছে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা ও মেরামতের কাজও। প্রায় ২০ বছর পর পৈতৃক বাড়িতে তার আগমনকে ঘিরে এলাকায় নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। দীর্ঘদিন পর পরিবারের একজন সদস্য দেশের সর্ব্বোচ্চ দায়িত্ব নিয়ে নিজ গ্রামে ফিরছেন এটি তাদের জন্য গর্বের বিষয়।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মধ্য দিয়ে বগুড়াবাসীর দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ঘটবে। উন্নয়নের নতুনদ্বার উন্মোচন হবে।
বিএনপি মিডিয়া সেল রাজশাহী-রংপুর বিভাগের সমন্বয়কারী ও বগুড়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সিনিয়র সাংবাদিক কালাম আজাদ জানান, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ২০ এপ্রিল নিজ জেলা বগুড়ায় আসছেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তাঁর প্রথম বগুড়া সফর। ইতিমধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। তাঁর আগমণকে ঘিয়ে জেলার সর্বত্র নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। সকলের মাঝে সাজ সাজ রব পড়েছে।
তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর বগুড়া উন্নয়ন বঞ্চিত ছিল। প্রধানমন্ত্রী যেহেতু এই বগুড়ার কৃতি সন্তান। সে কারণে তাঁর কাছে বগুড়াবাসীর প্রত্যাশা অনেক। তাঁর আগমনকে ঘিরে বেশকিছু কর্মসূচির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, বগুড়া সিটি কর্পোরেশন উদ্বোধন, ই-বেইলবন্ড কার্যক্রমের সূচনা, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ এবং আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জনসভা, গাবতলীর বাগবাড়ীতে পৈতৃক ভিটা পরিদর্শনসহ খাল খনন। এছাড়াও বগুড়া প্রেসক্লাবের নতুন ভবন এবং বাইতুর রহমান কেন্দ্রীয় মসজিদের পুনঃনির্মাণ কাজের উদ্বোধন করবেন তিনি। তাঁর এই সফরের মধ্য দিয়ে বগুড়াবাসীর দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ঘটবে।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, প্রধানমন্ত্রী এমন একজন মানুষ। যিনি জনবান্ধব। তিনি এই বগুড়ার কৃতি সন্তান। তিনি সফরে এসে সরকারি প্রোগ্রাম শেষে বগুড়ার মানুষের সাথে আলাদা করে দেখা করার জন্য এবং কথা বলার জন্য জনসভায় অংশ নেবেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বগুড়ায় আসবেন এজন্য আমরা সবাই ঐক্যমত পোষন করবো এবং এক সুরে কথা বলবো। ইনশাল্লাহ আগামীতে বগুড়ার উন্নয়ন হবে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি জানান, প্রধানমন্ত্রীর ২০ এপ্রিলের সফরসূচি এখন পর্যন্ত অপরিবর্তিত রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরকারি এই সফরে তাঁর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও সফরসঙ্গী থাকবেন। ইতিমধ্যে স্থানীয় প্রশাসন নিরাপত্তাসহ সার্বিক প্রস্তুতি জোরদার করেছে। আশা করছি এই সফর বগুড়াবাসীর স্বপ্ন বাস্তবায়নের সফর।