খুলনায় জরাজীর্ণ ভবন ও শিক্ষক সংকটে ধুঁকছে সিএসডি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
খুলনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: রোববার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৫৯ পিএম

খুলনা নগরীর বৈকালি এলাকায় অবস্থিত সিএসডি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বর্তমানে চরম অবহেলা, জরাজীর্ণ অবকাঠামো ও শিক্ষক সংকটে কার্যত ধুঁকছে। দেশ স্বাধীন এর পর ১৯৭৫ সালে সিএসডি খাদ্য গুদাম ভবনের আওতায় মেইন রোড থেকে ২০০ মিটার ভিতরে এ বিদ্যালয়টি নির্মাণ করা হয়।

সাম্প্রতিক দৈনিক জবাবদিহির সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, বিদ্যালয়টিতে অনুমোদিত শিক্ষক সংখ্যা ৬ জন হলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ২ জন এছাড়াও শিক্ষার মান নিয়ন্ত্রণে সংযুক্তিতে ২ জন শিক্ষক দ্বারা বর্তমানে বিদ্যালয়টি পরিচালিত হচ্ছে। শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট শিক্ষার্থী রয়েছে ৫৬ জন। এত অল্প শিক্ষক দিয়ে পাঠদান কার্যক্রম চালানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে, যার ফলে শিক্ষার মান নিয়েও দেখা দিয়েছে শঙ্কা।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা জেবুন্নেসা জানান, “আমি ১৯৮৯ সাল থেকে এই বিদ্যালয়ে কর্মরত আছি। আগে এখানে অনেক শিক্ষার্থী ছিল, কারণ আশপাশে কড়াই মিল বস্তি ছিল। সময়ের সাথে সাথে শিক্ষার্থীর সংখ্যা যেমন কমেছে, তেমনি শিক্ষক সংকটও বেড়েছে। এখন খুব কষ্ট করে পাঠদান চালাতে হচ্ছে।” আমরা জানতে পেরেছি এ বিদ্যালয়ে নতুন করে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে এবং বিদ্যালয়টির বর্তমান স্থানও স্থান্তরিত করার পরিকল্পনা চলছে, এ বিষয়ে খাদ্য অধিদপ্তর ও শিক্ষা অধিদপ্তর দ্রুত একটি সুন্দর সমাধানে আসবে বলে আমি আশা করি, তবেই হয়তো আবার এই বিদ্যালয়টি ছাএ ছাএীর পূর্ণতা পাবে এ অঞ্চলের নিম্ন ও মধ্যেবিও পরিবার বর্তমান ব্যায়বহুল সময়ে সরকারি খরচে নিজেদের বাচ্চাদের সুন্দর পরিবেশে পড়াতে পারবেন।

আরও পড়ুন : পঞ্চগড় সীমান্তে প্রায় ২ লক্ষ টাকার ভারতীয় শাড়ি সহ গরু জব্দ

এ বিষয়ে খুলনা সিএসডির ব্যবস্থাপক জনাব ইকবাল হোসেন বলেন, “খাদ্য অধিদপ্তর ও শিক্ষা অধিদপ্তর যৌথভাবে বিদ্যালয়টি স্থানান্তর ও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়ে আশাবাদী, ইতোমধ্যে আমাদের অধিদপ্তর এর সম্মানিত যুগ্ম সচিব জনাব সোহেলুর রহমান খান গত ২৫ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে নতুন খাদ্য গুদাম স্থাপনা পরিদর্শনে আসেন বিদ্যালয় স্থানান্তরের বিষয়ে তিনি মন্তব্য বইতে মতামত দিয়েছেন।”

তিনি আরও জানান, বিদ্যালয়টি উপযুক্ত স্থানে স্থানান্তর করা হলে এটি নতুনভাবে সবার নজরে আসবে এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার মানও বৃদ্ধি পাবে।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নুসরাত জাহান বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ে ৬ জন শিক্ষক থাকার কথা কিন্তুু এখন ২ জন শিক্ষক রয়েছেন যাদের মধ্যে একজন খুব দ্রুতই অবসরে যাবেন ২ জন সংযুক্তিতে আছেন। আমরা শিক্ষার্থীদের প্রতি যথেষ্ট আন্তরিক এখানে যে সকল শিক্ষার্থীরা আসেন তারা সকলেই পড়াশোনার জন্য  যথেষ্ট চেষ্টা করেন, তবে বিদ্যালয়টি এমন জায়গায় অবস্থিত যেটা মানুষের চোখে পরে না যে কারনে ছাএ ছাএীর সংখ্যা ও খুব কম রয়েছে। বিদ্যালয়টি নতুন ভাবে স্থানান্তর ও সংস্কার নিয়ে আমাদের উর্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা হয়েছে। 

আরও পড়ুন : টুঙ্গিপাড়ায় সড়ক পাশ থেকে অজ্ঞাত পরিচয় লাশ উদ্ধার

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ ও ভবন সংস্কার বা স্থানান্তরের উদ্যোগ না নিলে বিদ্যালয়টি তার অস্তিত্ব সংকটে পড়তে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপই পারে এই অবহেলিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিকে নতুন করে প্রাণ ফিরিয়ে দিতে। আমরা আশা করছি এ অঞ্চলের শিক্ষার মান উন্নয়নে সম্পৃক্ত অধিদপ্তর দ্রুত ব্যবস্থা নিবেন পাশাপাশি এ বিষয়ে আমরা খুলনা ৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব রকিবুল ইসলাম বকুলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

জ/দি

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft