প্রকাশ: রোববার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:৫৩ পিএম

পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়ায় গরুর মাংসের বাজার যেন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার স্বর্গরাজ্য। অতিরিক্ত দামে মাংস বিক্রি, মূল্য তালিকার অভাব, ভেটেরিনারি চিকিৎসক বা স্বাস্থ্য পরিদর্শকের অনুপস্থিতি এবং জবাইয়ের পর মাংসে পৌরসভার সিলমোহর না থাকা-এমনই সব চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের অনুসন্ধানে। কিন্তু তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে তারা মাংস ব্যবসায়ীদের তোপের মুখে পরেন এবং ভিডিও ডিলিট করতে বাধ্য করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, নিয়ম অনুসারে প্রতিদিন পশু জবাইয়ের ২৪ ঘণ্টা আগে ভেটেরিনারি সনদ, পশুর বয়স এবং সিলমোহর পরীক্ষা করার দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তারা শুক্রবার ও শনিবার কসাইখানায় উপস্থিত থাকেন না। গত ১১ এপ্রিল, শনিবার, গণমাধ্যম কর্মীরা সরজমিনে গিয়ে এসব তথ্য চিত্র সংগ্রহ করতে গেলে মাংস বিক্রেতারা বাধা দেন। তারা দাবি করেন, এই সংবাদ প্রচার হলে তাদের ক্ষতি হবে। পরে সাংবাদিকদের কাছে থাকা সকল ভিডিও জোরপূর্বক ডিলিট করে দেওয়া হয় এবং অকথ্য ভাষায় গালাগালি করা হয়।
এখানেই শেষ নয়, মাংস ব্যবসায়ীরা গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, “সংবাদ সংগ্রহ করতে হলে এমপি মহোদয়ের অনুমতি নিতে হবে অথবা তিনি যদি পাঠান তবেই সংবাদ সংগ্রহ করা যাবে।” এই মন্তব্যে স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং তথ্য অধিকার আইনকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করার এই ঘটনাটিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন তারা।
স্থানীয় সাংবাদিকরা বলছেন, এই ধরণের অনিয়ম ও গণমাধ্যম কর্মীদের ওপর ক্ষিপ্ত হওয়া সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় চরম হস্তক্ষেপ। তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে মাংসের বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং গণমাধ্যম কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
জ/দি