প্রকাশ: রোববার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৫৬ পিএম

পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করতে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ব্র্যাক সিড অ্যান্ড এগ্রো এন্টারপ্রাইজের উদ্যোগে দিনব্যাপী একটি বিশেষ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার উপজেলা কৃষি অফিসের হলরুমে আয়োজিত এই কর্মশালায় ‘উত্তম কৃষি চর্চা’ বিষয়কে কেন্দ্র করে কৃষকদের আধুনিক, নিরাপদ ও টেকসই কৃষি পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা প্রদান করা হয়।
কর্মশালায় বায়োপেস্টিসাইড ব্যবহারের গুরুত্ব, রাসায়নিক কীটনাশকের ক্ষতিকর প্রভাব এবং মাটির স্বাস্থ্য সংরক্ষণে করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বক্তারা বলেন, অতিরিক্ত রাসায়নিক নির্ভরতা মাটির উর্বরতা হ্রাসের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের জন্যও বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। এ প্রেক্ষাপটে পরিবেশবান্ধব বায়োপেস্টিসাইড একটি সময়োপযোগী ও কার্যকর বিকল্প হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার জয়ন্ত কুমার রায়। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার সন্দীপনা সরকার। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক সিড অ্যান্ড এগ্রো এন্টারপ্রাইজ, হবিগঞ্জ অঞ্চলের রিজিওনাল ম্যানেজার মোঃ আনিছুর রহমান, সিলেট জেলার টেরিটোরি অফিসার শাওন হাওলাদার, পিডিএস অফিসার মোঃ রুহুল আমিন এবং কমলগঞ্জ উপজেলার বীজ ডিলার প্রনয় পালসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
কর্মশালার সার্বিক তত্ত্বাবধান ও সমন্বয়ে ছিলেন মৌলভীবাজার জেলার টেরিটোরি অফিসার কৃষিবিদ আবুল কাশেম শাহরিয়ার। তিনি জানান, মাঠপর্যায়ে কৃষকদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ কৃষি প্রযুক্তির বিস্তারে এ ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দিনব্যাপী এই কর্মশালায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় ৭০ জন মডেল কৃষক ও কৃষাণী অংশগ্রহণ করেন। তারা প্রশিক্ষকদের কাছ থেকে আধুনিক কৃষি পদ্ধতি, পোকা দমন কৌশল এবং ফলন বৃদ্ধির বিভিন্ন কৌশল সম্পর্কে হাতে-কলমে ধারণা লাভ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জয়ন্ত কুমার রায় বলেন, বর্তমান সময়ে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ব্র্যাকের এ উদ্যোগ কৃষকদের সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎসাহিত করবে, যা কৃষি খাতে টেকসই উন্নয়নে সহায়ক হবে।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী কৃষকরা জানান, এ ধরনের প্রশিক্ষণ তাদের জন্য অত্যন্ত উপকারী। মাঠপর্যায়ে অর্জিত জ্ঞান প্রয়োগ করে তারা নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে আগ্রহী।
সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে কমলগঞ্জসহ পুরো অঞ্চলে পরিবেশবান্ধব কৃষি চর্চা আরও বিস্তৃত হবে এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।
জ/দি