নয়াদিল্লি ও ঢাকা শূন্য থেকে শুরু করছে না: এনডিটিভিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:২৫ পিএম

নয়াদিল্লি ও ঢাকা শূন্য থেকে শুরু করছে না; বরং এমন এক সম্পর্কের স্মৃতি থেকে এগোচ্ছে, যা গড়ে উঠেছে অভিন্ন নদী, অভিন্ন সীমান্ত এবং সাংস্কৃতিক ঘনিষ্ঠতার ভিত্তিতে। এসব ক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিক কূটনীতিও অনেক সময় অপ্রয়োজনীয় মনে হয়। 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর ভারতীয় গণমাধ্যমে দেওয়া নিজের প্রথম সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।

এনডিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিনি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দেখছেন ‘ধীরে কিন্তু নিশ্চিতভাবে’ এই ধারণার আলোকে। এর একটি প্রতিফলন দেখা যায় ২৬ মার্চ দিল্লিতে বাংলাদেশের জাতীয় দিবস উদযাপনে। সেখানে দুই দেশের জাতীয় সংগীত সরাসরি পরিবেশন করা হয়-যা দুই দেশের শক্তিশালী সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে উঠে আসে। খলিলুর রহমানের ভাষায়, এটি ছিল একটি স্মরণীয় মুহূর্ত। 

আরও পড়ুন : লেবাননে ইসরায়েলি হামলার তীব্র নিন্দা বাংলাদেশের

তিনি বলেন, ‘নয়াদিল্লির পরিবেশে তিনি এক ধরনের ‘সম্মিলন’ লক্ষ্য করেছেন। সেখানে দুই দেশই ‘আলোচনা, সম্পৃক্ততা ও উদ্যোগ নিতে আগ্রহী’। 

তিনি জানান, সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য দুই পক্ষই কাজ করছে। তবে এখন তাড়াহুড়া না করে ধীরে ধীরে আস্থা গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজন ধৈর্য।’

মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় ভারত ও বাংলাদেশ কীভাবে একসঙ্গে কাজ করে- এটি হবে সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক বলে তিনি উল্লেখ করেন। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশই জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলের চাপ অনুভব করছে। 

খলিলুর রহমান বলেন, ‘সংকটের সময় ঢাকা যখন অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগ করে, তখন ভারত দ্রুত সাড়া দেয়।’ 

তিনি বলেন, ‘আমাদের একটি পাইপলাইন আছে এবং ভারত বাংলাদেশে ডিজেল সরবরাহ করছে।’

আরও পড়ুন : গণভোট নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে যে আবেদন জানালেন জুলাই শহীদের বোন

সম্প্রতি তিনি দিল্লি সফর করেন এবং ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে মরিশাসে একটি আলাদা অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার সময় এনডিটিভিকে এই সাক্ষাৎকার দেন।

খলিলুর রহমান জানান, মরিশাসে যাওয়ার আগে তিনি ভারতের কাছে ডিজেল সরবরাহ বাড়ানোর অনুরোধ করেন। কিছু লজিস্টিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও নয়াদিল্লি জানিয়েছে, নিজেদের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পর সরবরাহ বাড়ানো হবে।

১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গা পানি চুক্তি এ বছর পুনরায় আলোচনার জন্য নির্ধারিত। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ন্যায্য ও জলবায়ু সহনশীল পানি বণ্টন ব্যবস্থা একটি ‘সভ্যতাগত বন্ধন’।’ 

তিনি বলেন, ‘পানি সীমিত। গঙ্গা মানেই জীবন। সীমান্তের দুই পাশেই জীবিকা নির্ভর করে অভিন্ন নদীগুলোর পানিপ্রবাহের ওপর।’ 

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, নয়াদিল্লিতে তিনি যে ‘আগ্রহ ও সদিচ্ছা’ দেখেছেন, তা একটি শক্তিশালী কাঠামোতে রূপ নেবে। 

আরও পড়ুন : লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টারের পদত্যাগ

তিনি আরও বলেন, ‘যৌথ সম্পদের মাধ্যমে জলবায়ু সহনশীলতা অর্জন আগামী অন্তত তিন দশকের জন্য দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভিত্তি হতে পারে।’ খলিলুর রহমান বলেন, ‘মানুষ তো মানুষই-ভারত হোক বা বাংলাদেশ। আমরা একই ধরনের জলবায়ু সংকটের মুখোমুখি।’ তিনি মানুষে-মানুষে যোগাযোগ এবং সহজ ভিসা ব্যবস্থার গুরুত্বও তুলে ধরেন।

সম্প্রতি কিছু চ্যালেঞ্জের পর সম্পর্ক নতুনভাবে গড়ে তোলার ইঙ্গিত দিয়ে চীন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ তার পররাষ্ট্রনীতিকে জিরো-সাম গেম হিসেবে দেখে না এবং অন্যদের কাছ থেকেও একই দৃষ্টিভঙ্গি প্রত্যাশা করে।’ তিনি বলেন, ‘অন্য দেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক কোনো সমস্যা নয়।’ বাণিজ্য ঘাটতি বাজারের প্রভাবেই তৈরি হয়, কৌশলগত অবস্থানের কারণে নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সবশেষে খলিলুর রহমান বলেন, ‘অর্থনৈতিক পরিপূরকতা, সীমান্ত পারাপার সংযোগ এবং যৌথ অবকাঠামো-এসবের সুফল দুই দেশের মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে।’ তার মতে, ভারত কোনো বাহ্যিক অংশীদার নয়, বরং একটি ‘কাঠামোগত উপস্থিতি’-যা বাংলাদেশের জন্য অপরিহার্য।

জ/উ

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft