১০টি বেঞ্চ স্থাপনে ব্যয় সোয়া চার লাখ টাকা
বাকেরগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি
প্রকাশ: রোববার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৩৩ এএম

বরিশালের বাকেরগঞ্জ পৌরসভায় ছয়টি প্যাকেজে উন্নয়ন কাজের দরপত্রে অস্বাভাবিক ব্যয়ের অভিযোগ উঠেছে। এতে সড়কের পাশে ১০টি বেঞ্চ স্থাপনে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ লাখ ১৭ হাজার ২২৭ টাকা। দরপত্রে মোট ব্যয় এক কোটি ১০ লাখ ৭ হাজার ৬৬৭ টাকা হলেও এর বড় অংশই পৌরসভা ভবন ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো উন্নয়নে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। কাজের ধরন ও পরিসরের তুলনায় এই ব্যয় অযৌক্তিক বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আওতায় এসব কাজের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। দরপত্র বিক্রয়ের শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ এপ্রিল ২০২৬। ছয়টি প্যাকেজে বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

দরপত্রের তথ্য অনুযায়ী, ৪ নম্বর ওয়ার্ডে পৌরসভা ক্যাম্পাসে ইউনিব্লক সড়ক ও প্ল্যাটফর্ম নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৪০ হাজার ১৫২ টাকা। একই ভবনের কনফারেন্স ও অফিস কক্ষের অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্য বর্ধনে ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৩ লাখ ৩৬ হাজার ৭৮৮ টাকা। এছাড়া ভবনের ছাদে টাইলস বসাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১১ লাখ ৪৯ হাজার ১২১ টাকা। এই তিনটি কাজ মিলিয়ে পৌর ভবনকেন্দ্রিক ব্যয় দাঁড়াচ্ছে ৬৪ লাখ ২৬ হাজার ৬১ টাকা। 

আরও পড়ুন : সিলেট অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির সতর্কতা

এছাড়া ৫ নম্বর ওয়ার্ডে সাহেবগঞ্জ বেড়িবাঁধ সড়কের পাশে ১০টি বেঞ্চ স্থাপনে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ লাখ ১৭ হাজার ২২৭ টাকা, যা প্রতিটি বেঞ্চের জন্য ব্যয় প্রায় ৪১ হাজার ৭২৩ টাকা। 

অন্যদিকে পৌরসভার ১ থেকে ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ৫০টি সড়ক বাতি স্থাপনে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২৫ লাখ ৮৯ হাজার ৫৭৬ টাকা, অর্থাৎ প্রতিটি বাতিতে ব্যয় প্রায় ৫১ হাজার ৭৯২ টাকা। 

একই সঙ্গে বাকেরগঞ্জ সরকারি বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অভিভাবকদের জন্য একটি অপেক্ষাকক্ষ নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৭৪ হাজার ৮০৩ টাকা।

এসব ব্যয়কে অযৌক্তিক দাবি করে সাবেক কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা আলিম জোমাদ্দার বলেন, পৌর ভবনের জন্য নেওয়া বেশিরভাগ কাজই অপ্রয়োজনীয়। ভবনের সড়ক ভালো অবস্থায় রয়েছে, ছাদে টাইলস বসানোরও প্রয়োজন নেই। মাত্র ৩শ বর্গফুটের দুটি কক্ষ সাজাতে ৪৩ লাখ টাকা ব্যয় ধরা অস্বাভাবিক। 

আরও পড়ুন : কদমতলীতে কারখানায় আগুন : নিহত বেড়ে ৬

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পৌরসভার এক কর্মচারী জানান, প্রশাসক (ইউএনও) ও প্রকৌশলীর বদলির প্রেক্ষাপটে এটি তাদের শেষ সময়ের কাজ হওয়ায় ব্যয় বাড়িয়ে ধরা হয়েছে বলে সন্দেহ রয়েছে।

পৌর বিএনপির ৪ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি জামাল হোসেন বিপ্লব বলেন, পৌর ভবনে বড় ধরনের কোনো কাজের প্রয়োজন নেই। সেখানে ৬৩ লাখ টাকা বরাদ্দ অস্বাভাবিক এবং বিষয়টি তদন্ত হওয়া উচিত। 

পৌর ঠিকাদার জাকির হোসেনও একই মত দিয়ে বলেন, দরপত্রে নির্ধারিত ব্যয় ও বাস্তব কাজের মধ্যে কোনো সামঞ্জস্য নেই। তিনি দাবি করেন, ১ হাজার ৫০০ বর্গফুট ছাদে টাইলস বসাতে সর্বোচ্চ ৪ লাখ টাকা লাগতে পারে, অথচ এখানে প্রায় সাড়ে ১১ লাখ টাকা ধরা হয়েছে। 
আরও পড়ুন : নেত্রকোণায় সংস্কারহীন সড়ক: এলজিইডি–পৌরসভার সমন্বয়হীনতায় দুর্ভোগে ৪০ হাজার মানুষ

এ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী জসিম উদ্দীন বলেন, প্রাক্কলন অনুযায়ী বাজারদর বিবেচনা করেই ব্যয় নির্ধারণ করা হয়। তবে প্রাক্কলন না দেখে তিনি নির্দিষ্টভাবে কিছু বলতে পারেননি। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক রোমানা আফরোজ বলেন, বিষয়টি তার কাছেও অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। তবে কাজের বরাদ্দ ও প্রাক্কলন নির্ধারণের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল বিভাগের বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সচেতন নাগরিকদের মতে, ছোট পরিসরের কাজেও অতিরিক্ত ব্যয় দেখানোয় প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তারা দরপত্র প্রক্রিয়া ও ব্যয়ের যৌক্তিকতা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন। 

জ/দি

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft