প্রকাশ: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ৯:২২ এএম

সিরাজগঞ্জ শহরের হোসেনপুর নিজ বাসভবন থেকে রাত ১০টায় বের হন বিদ্যুৎ, খনিজ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। সঙ্গে পুলিশ প্রটোকল থাকলেও কেউ জানেন না তিনি কোথায় যাবেন? এরপর সার্কিট হাউজে গিয়ে জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম ও পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতুসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে রওনা দেন মহাসড়কের দিকে। তখনও কেউ জানেন না কোথায় যাবেন তিনি। গাড়ী বহর নিয়ে একটানে শহর থেকে প্রায় ৬০ কি.মি দুরে বাঘাবাড়ী অয়েল ডিপোতে চলে যান। তখন রাত বাজে প্রায় পৌনে ১২ টায়। ডিপো গেট বন্ধ ছিল। গেটম্যানও জানেনা কে আসছেন। পুলিশের ডাকে গেট খুলে দেন গেটম্যান। পরে ডিপো ইনচার্জ সংবাদ পেয়ে তড়িঘরি করে ঘুম থেকে উঠে গেটে চলে আসেন। এ সময় মন্ত্রী ডিপো এলাকা ঘুরে দেখেন।
এ সময় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমরা সবগুলো ডিপোতে তেল দিচ্ছি। ডিপো থেকে তেলও বের হয়ে যাচ্ছে। তেল বের হওয়ার পরও আমরা দেখছি হাহাকার। দেশে তেল নেই। এটা কিভাবে সুষম করা যায়? কিভাবে তেল দিলে এ কথাগুলো কেউ না বলতে পারে? সেসব বিষয়ে ডিপো ইনচার্জদের সাথে আলোচনা করলাম এবং প্রত্যেক ইনচার্জদের নির্দেশনা দিলাম যেন প্রত্যেকটা পাম্পে যেন তেল যায় এবং প্রত্যেক পাম্পে ঠিকমতো তেল পৌছে। আমি যেন না শুনি কোন পাম্পে তেল যায়নি। কিভাবে করবে সেই নির্দেশনা দিয়েছি। আশা করছি আগামীকাল থেকে তারা এ নির্দেশনা পালন করবে এবং প্রত্যেকটা পাম্পে ঠিকমতো তেল যাবে।
তিনি আরো জানান, বাঘাবাড়ী অয়েল ডিপোতে কোন সিন্ডিকেট কাজ করছে কিনা সেটা দেখা এবং চোরা কারবারী বন্ধসহ ও প্লানিংয়ে দেয়ার জন্যই মুলত গভীর রাতে ডিপো পরিদর্শন করা বলে জানান মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। এসময় মন্ত্রী সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের বাঘাবাড়ী ডিপো এলাকায় কোন সিন্ডিকেট কাজ করছে এবং কারা সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত সে বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনী ব্যবস্থা গ্রহনের পরামর্শ দেন।
প্রসঙ্গত, বাঘাবাড়ী অয়েল ডিপো থেকে রংপুর, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগের ২০টি জেলার পাম্পে তেল সরবরাহ করা হয়। ইরান যুদ্ধের পর থেকে রেশনিং পদ্ধতিতে তেল সরবরাহ করা হচিছল। এতে গড়ে প্রতিদিন প্রায় ২৫০-২৮০টি পাম্পে তেল যেত।
জ/দি