নেত্রকোণায় ধর্ষণ মামলায় ১৩ বছর পর রায়, ডিএনএ পরীক্ষায় সন্তানের পিতৃত্ব নিশ্চিত; আসামির যাবজ্জীবন
প্রকাশ: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ৬:২৫ পিএম

নেত্রকোণার বারহাট্টায় এক বিধবাকে ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ১৩ বছর পর রায় দিয়েছেন আদালত। রায়ে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে ধর্ষণের ফলে জন্ম নেওয়া কন্যাশিশুর জৈবিক পিতা হিসেবে অভিযুক্তের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত মো. হেলালকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে নেত্রকোণা জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ কে এম এমদাদুল হক এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালের ১ মার্চ বারহাট্টা উপজেলার স্বল্পদশাল গ্রামের বাসিন্দা মো. আলমের ছেলে মো. হেলাল একই এলাকার এক বিধবাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। ঘটনার পর ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হন এবং পরে একটি কন্যাশিশুর জন্ম দেন।
এ ঘটনায় ২০১৩ সালের ১০ মার্চ ভুক্তভোগীর বোন শহরবানু বাদী হয়ে বারহাট্টা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
মামলার বিচার চলাকালে আটজন সাক্ষীর সাক্ষ্য, উপস্থাপিত আলামত এবং ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে আদালত নিশ্চিত হন যে, ধর্ষণের ঘটনায় জন্ম নেওয়া শিশুটির জৈবিক পিতা অভিযুক্ত মো. হেলাল।
রায়ে আদালত শিশুটির পিতৃত্বের আইনগত স্বীকৃতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি ধর্ষণের দায়ে মো. হেলালকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট নূরুল কবীর রুবেল। বাদীপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট মানবেন্দ্র বিকাশ উজ্জ্বল।