প্রকাশ: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৪:৪৬ পিএম

ঝিনাইদহে তেল পাম্পে ভাঙচুর ও বাসে অগ্নিসংযোগের অভিযোগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৭ নেতাকে আটকের পর গ্রেফতার দেখিয়েছে পুলিশ। সোমবার দুপুরে বাস মালিকদের পক্ষে সাইফ নোমান এবং পেট্রোল পাম্প সৃজনী ফিলিং স্টেশনের পক্ষে শামসুল কবীর মিলন বাদী হয়ে ঝিনাইদহ সদর থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল।
গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন- ঝিনাইদহ জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি সাইদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান জীবন, যুগ্ম আহ্বায়ক এজাজ হাসান অন্তর মাহমুদ, দ্য রেড জুলাইয়ের আহ্বায়ক আবু হাসনাত তানাঈম, সংগঠনের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ন কবির, তাশদিদ হাসান ও রাসেল।
পুলিশ জানায়, গত ৭ মার্চ ঝিনাইদহ শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতা ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদের মালিকানাধীন তাজ ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে গিয়ে পাম্প কর্মচারীদের হামলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মী ফারদিন আহম্মেদ নীরব নিহত হন। এ ঘটনায় র্যাব ও পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে পাম্পের তিন কর্মচারীকে গ্রেফতার করে।
নীরব হত্যার ঘটনার পর ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা ওই তেল পাম্পে ভাঙচুরের চেষ্টা চালায়। পরে পুলিশের বাধায় তারা একই মালিকানাধীন আরাপপুর এলাকার সৃজনী ফিলিং স্টেশনে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। একই দিন রাত সোয়া ৩টার দিকে ঝিনাইদহ বাস টার্মিনালে দাঁড়িয়ে থাকা রয়েল পরিবহনের দুটি এবং জে-লাইন পরিবহনের একটি বাসে আগুন দেওয়া হয়।
পুলিশের দাবি, সিসিটিভি ফুটেজ, তথ্যপ্রযুক্তি ও মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে হামলাকারীদের শনাক্ত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক তারেক রেজা বলেন, প্রতিটি অপরাধই আইনের দৃষ্টিতে দণ্ডনীয় এবং প্রকৃত অপরাধীর বিচার হওয়া উচিত। তবে যাদের গ্রেফতার দেখানো হয়েছে তাদের মধ্যে অনেকেই নির্দোষ থাকতে পারেন। হত্যার ঘটনার তুলনায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে বড় করে দেখানো হলে তা দুঃখজনক হবে।
উল্লেখ্য, শনিবার সন্ধ্যায় শহরের তাজ ফিলিং স্টেশনে তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে পাম্প কর্মচারীদের মারধরে নিহত হন নীরব হোসেন। এ ঘটনায় নিহতের বাবা আলীমুর রহমান বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতদের আসামি করে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ইতোমধ্যে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে।
এদিকে পাম্পের মালিক ও সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনার প্রতিবাদে শ্রমিকরা মহাসড়ক অবরোধ করলে পুলিশ জড়িতদের গ্রেফতারের আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।
জ/উ