প্রকাশ: সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬, ৩:৫০ পিএম

নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলায় আমের ভরা মৌসুমেই ফলন্ত আমগাছ কেটে বিক্রি করার উদ্বেগজনক প্রবণতা দেখা দিয়েছে। মুকুল থেকে গুটি ধরার গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এভাবে গাছ নিধন স্থানীয় কৃষি অর্থনীতি ও ঐতিহ্যবাহী আম উৎপাদনের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে উঠছে।
সরেজমিনে উপজেলার জামনগর বাজার এলাকায় দেখা যায়, এক ভ্যানচালক তার ছাগলকে খাওয়ানোর জন্য মুকুল ও গুটিতে ভরপুর আমগাছের ডাল বহন করছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ভ্যানচালক জানান, রাস্তায় যাওয়ার সময় একটি আমবাগানে গাছ কাটতে দেখে তিনি সেখান থেকে কিছু ডাল নিয়ে আসেন ছাগলের খাবারের জন্য।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আশপাশের বিভিন্ন ফলন্ত আমবাগান থেকে গাছের ডালপালা কেটে আনা হচ্ছে। এতে সম্ভাব্য ফলন নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বাগানের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আর্থিক সংকট, জমির ব্যবহার পরিবর্তন এবং দ্রুত নগদ অর্থের প্রয়োজনের কারণে অনেকেই ফলন্ত আমগাছ কেটে কাঠ হিসেবে বিক্রি করছেন। এতে তাৎক্ষণিক কিছু অর্থ পাওয়া গেলেও দীর্ঘমেয়াদে কৃষকদেরই বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।
সচেতন মহলের মতে, এভাবে ফলনশীল আমগাছ নির্বিচারে কেটে ফেলা হলে ভবিষ্যতে আম উৎপাদন মারাত্মকভাবে কমে যেতে পারে। এর প্রভাব পড়বে স্থানীয় অর্থনীতিতেও। বিশেষ করে রাজশাহী অঞ্চল-এর আম দেশজুড়ে সুনাম অর্জন করেছে এবং রপ্তানিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফলন্ত গাছ নিধন অব্যাহত থাকলে শুধু কৃষকই নয়, পুরো অঞ্চলের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।
উল্লেখ্য, রাজশাহী অঞ্চলের আম বাংলাদেশের অন্যতম সুপরিচিত ও জনপ্রিয় ফল। এমন সময়ে ফলন্ত গাছ কেটে ফেলার প্রবণতা রোধে স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর নজরদারি এবং কৃষকদের সচেতনতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই- এমনটাই দাবি সংশ্লিষ্টদের।
জ/দি