
ঝালকাঠির রাজাপুর থানার অধীনে গত ৪ জানুয়ারি সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নওরীন কবির “এথিস্ট ইন বাংলাদেশ” নামক ওয়েবসাইটের প্রকাশক ও বিভিন্ন লেখকের বিরুদ্ধে নজীর আহম্মদ কর্তৃক দায়েরকৃত ধর্ম অবমাননার মামলা গ্রহণ করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ইসলাম ধর্মের প্রতি অবমাননাকর বক্তব্য প্রকাশের অভিযোগ রয়েছে। মামলাটি তদন্তের নির্দেশ রাজাপুর থানার গোয়েন্দা শাখাকে দিয়েছেন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নওরীন কবির।
মামলার পর্যালোচনার সময় আদালত বলেন, অভিযুক্তদের প্রকাশিত বক্তব্য সমাজ ও রাষ্ট্রের শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করতে পারে এবং জনমনে রোষ ও ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট হতে পারে। এছাড়া, তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট থানাকে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলার আসামীর সংখ্যা ১৯ জন। মামলাটি ফৌজদারী দণ্ডবিধি, ১৮৬০ (সংশোধিত) আইনের ২৯৫, ২৯৮ ও ৩৪ ধারার অধীনে গ্রহণ করা হয়েছে। মামলার নম্বর: সি.আর.-০৩/২০২৬। তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তারিখ নির্ধারিত হয়েছে ৫ মার্চ ২০২৬।
এথিস্ট ইন বাংলাদেশ ওয়েবসাইট এর প্রকাশক মোহাম্মদ মোশাররফ হোসাইনকে এই মামলায় আসামী করা হয়েছে। মামলায় অভিযুক্ত অন্যান্য আসামীরা উক্ত ওয়েবসাইট এ বিবিধ ইসলাম ধর্মকে লক্ষ্য করে আক্রমনাত্মক লিখা লিখেছেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে – গাজী আফতাবুন নেসা রিতি, সমীর হালদার, নুরুল আমিন, মোঃ তানভির হোসেন, সাব্বির আহমেদ, এমডি জাকির হোসাইন, এমডি মিজানুর রাহমান, বুরহান উদ্দীন, রাজীব সাহা, রুমানা পারভীন, মোসাম্মাত নাসরিন সুলতানা, মুনায়েম আহমেদ, গাজী মোহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম, সৈয়দ আরিফ মাসুদ, এম ডি যোবায়ের হোসেন, মোহাম্মদ আল মামুর, আব্দুল্লাহ আল হোসাইন, এবং হামজা রহমান অন্তর।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে রাজাপুর থানার অফিসার-ইন-চার্জ মোঃ ইসমাইল হোসেন বলেন, অভিযোগ প্রাথমিকভাবে সত্য প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগভাবে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতির জন্য হুমকিস্বরূপ এবং সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।
ওসি জানান, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সর্বদা সতর্ক রয়েছে এবং তদন্তের স্বার্থে সকল দিক গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এখন পর্যন্ত “এথিস্ট ইন বাংলাদেশ” ওয়েবসাইটের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে রাজাপুর থানার এক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্র জানায়, ইতোমধ্যেই মামলার বেশ কয়েকজন আসামীকে সনাক্ত করা হয়েছে এবং অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। বাকি আসামীদের বিষয়ে তদন্ত চলমান।
আদালতে মামলাটি পর্যালোচনা করা হয়েছে এবং এটি নিয়ে উচ্চ পর্যায়ে আগ্রহ ও উত্তেজনা লক্ষ্য করা গেছে। আদালত উল্লেখ করেছেন, অভিযুক্তদের প্রকাশিত বক্তব্য সমাজ ও রাষ্ট্রের শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করতে পারে এবং জনমনে রোষ ও ধর্মীয় সম্প্রীতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সে কারণে সংশ্লিষ্ট থানাকে তদন্তে অতিরিক্ত সতর্ক ও সক্রিয় থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।