নাসিরনগর আইএলএসটি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন: নিয়োগ সংকট ও অবৈধ কোর্স বাতিলের দাবিতে ক্যাম্পাস শাটডাউন
প্রকাশ: সোমবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১২:০৬ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় অবস্থিত ইনস্টিটিউট অব লাইভস্টক সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (আইএলএসটি) ক্যাম্পাসে গত ২১ ডিসেম্বর রোববার শিক্ষার্থীরা তাদের দীর্ঘদিনের দাবি আদায়ে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে সম্পূর্ণ শাটডাউন কর্মসূচি পালন করেছেন। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে তারা ক্যাম্পাসের সকল একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রেখে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন এবং সমাবেশ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন শিক্ষার্থী মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম সৈকত, হামিম ইসলাম, তাহমিদ নিশাত, জিহাদুল গাজী, আবদুল আউয়াল আবিরসহ অনেকে। বক্তারা সরকারের কাছে রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে পরিচালিত ভেটেরিনারি ট্রেনিং ইনস্টিটিউটগুলোতে (ভিটিআই) পেশাজীবীদের জন্য চালু অবৈধ ডিপ্লোমা কোর্স অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানান। পাশাপাশি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের নিয়োগ বিধিমালা-২০২৩ সংশোধন করে সকল সাব-টেকনিক্যাল পদে ‘ডিপ্লোমা ইন লাইভস্টক’ ডিগ্রিধারীদের একক নিয়োগযোগ্যতা নিশ্চিত করে দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারির আহ্বান জানান। শিক্ষার্থীরা সতর্ক করে বলেন, আজকের মধ্যে লিখিত প্রজ্ঞাপন না জারি হলে তারা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনসহ শাটডাউন কর্মসূচি অব্যাহত রাখবেন।
এই আন্দোলনের পটভূমি বেশ পুরনো। ২০১৬ সালে সরকার প্রাণিসম্পদ খাতে দক্ষ জনবল তৈরির লক্ষ্যে আইএলএসটি প্রতিষ্ঠানগুলো চালু করে, যেখানে এসএসসি পাসের পর চার বছরের ‘ডিপ্লোমা ইন লাইভস্টক’ কোর্স চালু হয়। উদ্দেশ্য ছিল মাঠপর্যায়ে দক্ষ কর্মী সরবরাহ করা, যাতে পুরনো উচ্চমাধ্যমিক পাস কর্মীদের অতিরিক্ত প্রশিক্ষণের খরচ বাঁচে। কিন্তু ২০২৩ সালের নিয়োগ বিধিমালায় এই ডিপ্লোমা ধারীদের জন্য সুনির্দিষ্ট পদ না রাখায় হাজারো শিক্ষার্থী বেকারত্বের শিকার হচ্ছেন। পুরনো বিধি অনুসরণ করে সাব-টেকনিক্যাল পদগুলোতে (যেমন উপ-সহকারী লাইভস্টক অফিসার, ফিল্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট ইত্যাদি) জেনারেল নিয়োগ চলছে, যা ডিপ্লোমা ধারীদের সুযোগ কেড়ে নিচ্ছে। এছাড়া ভিটিআইগুলোতে চালু অবৈধ কোর্সগুলোকে তারা এই সংকটের অন্যতম কারণ মনে করেন। এর আগে নভেম্বর মাসে নাসিরনগরে সড়ক অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচি পালিত হয়েছে, যা উপজেলা প্রশাসনের আশ্বাসে স্থগিত হলেও দাবি পূরণ না হওয়ায় আবার শুরু হয়েছে। একই দাবিতে নেত্রকোনা, গোপালগঞ্জসহ অন্যান্য আইএলএসটিতেও বিক্ষোভ হয়েছে।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন যে, চার বছরের কঠোর প্রশিক্ষণ নিয়ে তারা দক্ষ হয়ে উঠলেও নিয়োগ বিধিতে তাদের অগ্রাধিকার না থাকায় সরকারি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ হচ্ছে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সাবেক প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও বিধিমালা সংশোধন না হওয়ায় এই অসন্তোষ বাড়ছে। প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ দাবিগুলোকে যৌক্তিক বলে মন্ত্রণালয়ে জানিয়েছে, কিন্তু এখনো কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। এই আন্দোলন যদি দ্রুত সমাধান না হয়, তাহলে দেশের প্রাণিসম্পদ খাতে দক্ষ জনবলের সংকট আরও গভীর হবে এবং শিক্ষিত যুবকদের হতাশা বাড়বে। সরকারের উচিত দ্রুত সংলাপের মাধ্যমে বিধিমালা সংশোধন করে এই সংকট নিরসন করা, যাতে প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়ন অব্যাহত থাকে। এই প্রতিবেদন বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সরকারি নথি থেকে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে মৌলিকভাবে তৈরি করা হয়েছে।
জ/দি