প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১:১৩ পিএম

চার দশক ধরে একই স্থানে বসে গান গেয়ে সংসার চালাচ্ছিলেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হেলাল মিয়া ও তাঁর পরিবার। মানুষের দেওয়া সামান্য টাকা–পয়সাই ছিল তাদের একমাত্র ভরসা। কিন্তু পাঁচ দিন আগে কিছু যুবকের বাধায় বন্ধ হয়ে গেছে সেই পথও। এখন অসহায় হয়ে বাড়িতে বসে আছেন ১৩ সদস্যের এই পরিবার-যাদের মধ্যে নয়জনই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী।
হেলাল মিয়া জানান, গত ২৬ নভেম্বর নিয়মিত সংগীত পরিবেশনের সময় কয়েকজন যুবক এসে তাঁদের গান গাওয়া থামিয়ে দেন। হুমকিও দেন-আর গান করতে দেওয়া হবে না, “ভিক্ষা করে সংসার চালানোর” পরামর্শও দেন। যুবকদের পরিচয় তিনি জানেন না।
হঠাৎ গান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবার নিয়ে দেনদরবারে পড়েছেন হেলাল। তিনি বলেন, “আমরা কখনো হাত পাতিনি। গান গেয়েই চলত সংসার। এখন সেইটাও বন্ধ।”
৬৫ বছর বয়সী হেলাল মিয়া কিশোর বয়সে গানের তালিম নেন সদর উপজেলার ভাটপাড়া গ্রামের শিল্পী শাহনূর শাহ-এর কাছে। পরে জীবিকার তাগিদে সন্তানদেরও গান শিখিয়ে দলে যুক্ত করেন। ৪০ বছর ধরে পৌর মুক্ত মঞ্চই ছিল তাঁদের নিয়মিত পরিবেশনার জায়গা। দেশের বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও গান করেছেন; এমনকি ‘ইত্যাদি’ ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানেও পরিবেশন করেছেন তিনি।
হুমকির কারণে এখন আর কোথাও গান গাইতে পারছেন না। বলেন, “গান ছাড়া আমাদের আর কোনো আয়ের পথ নেই। জায়গাও পাই না।”
পরিস্থিতি জানিয়ে তিনি সাবেক মেয়র হাফিজুর রহমান মোল্লা কচির শরণাপন্ন হন। কচি মোল্লা বলেন, “তাকে আগের জায়গায় ফিরে গিয়ে গান করার জন্য বলেছি। কেউ বাধা দিলে আমাকে জানাতে বলেছি।” মেয়র থাকাকালে পৌর মুক্ত মঞ্চে তাঁর জন্য স্থায়ী জায়গাও করে দেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে নতুন জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহান বলেন, “ঘটনাটি জেনেছি। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ইতিবাচক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
হেলাল মিয়া আগামীকাল আবার আগের স্থানে বসে গান গাওয়ার চেষ্টা করবেন। তিনি স্থানীয় প্রশাসন ও সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন।
জ/উ