প্রকাশ: শুক্রবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৭:০২ পিএম

ঢলের সাথে ভেসে আসা লাকড়ি ধরতে গিয়ে চেল্লাখালি নদীতে স্রোতের তোড়ে হুমায়ূন (১০) নামের এক কিশোর নিখোঁজ হয়েছে। ১৮ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার পোড়াগাঁও ইউনিয়নের বুরুঙ্গা ব্রীজ সংলগ্ন স্থানে এঘটনা ঘটে।
নিখোঁজের পর পরই ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরীরা উদ্ধার চেষ্টা চালালেও এই কিশোর বা তার মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, চেল্লাখালি নদীতে নিখোঁজ হওয়া হুমায়ূনকে উদ্ধার করতে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস যৌথভাবে কাজ করছে।
নিখোঁজ হুমায়ুন বুরুঙ্গা গ্রামের দুলাল মিয়ার পুত্র এবং বুরুঙ্গা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চেল্লাখালী নদীতে উজানথেকে নেমে আসা ঢলের সাথে লাকড়ি ভেসে আসছিল। বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে বুরুঙ্গা ব্রীজ সংলগ্ন এলাকার দক্ষিণ পাশে হুমায়ুন ও তার সম বয়সী চাচাতো ভাই আতিক হাসান দুইজনে মিলে বাড়ির পাশের ওই চেল্লাখালী নদীর পানিতে ভেসে আসা লাকড়ি ধরতে যায়। লাকড়ি ধরার সময় হঠাৎ নদীর তীব্র স্রোতে দুজনেই ভাটির দিকে ভেসে যেতে থাকে। একপর্যায়ে চাচাতো ভাই আতিক হাসান সাতার কেটে নদীর তীরে উঠতে পারলেও হুমায়ুন স্রোতের তোড়ে ভাটির দিকে ভেসে যায়।
হুমায়ুনের বাবা দুলাল মিয়া বলেন, আমার ছেলে নদীতে ভেসে যাওয়ার পরপরই গ্রামবাসীদের সহযোগীতায় দ্রুত ফায়ার সার্ভিস আফিসে মোবাইলে কল করি। খবর পেয়ে জামালপুর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরীসহ একটি টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। একইসাথে তারা উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে।
জামালপুর ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার মো. আজাহারুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, দুপুরের দিকে ফোন কল পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল চেল্লাখালী নদীর বুরুঙ্গা ব্রীজপাড় এলাকায় ছুটে আসি। এ সময় নদীর চরে আটকে পড়া দুইজন মহিলাকে উদ্ধার করতে সক্ষম হই। কিন্তু নদীতে তীব্র স্রোত থাকার কারনে উদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় নিখোঁজ হুমায়ুনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তারপরও আমাদের উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রেখেছি।