খুলনার কৈয়া-রায়েরমহল সড়ক সংস্কার শেষ না হতেই ফের বেহাল দশা
খুলনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: শুক্রবার, ২২ আগস্ট, ২০২৫, ৫:৪৯ পিএম

১১ কোটি ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা ৫ দশমিক ৮ কিলোমিটারের খুলনার কৈয়াবাজার থেকে রায়েরমহল সুইসগেট পর্যন্ত সড়কটি ফের বেহাল হয়ে পড়েছে। 

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলছেন, সংস্কারকাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে কয়েক মাসের মধ্যেই ফের বেহাল হয়ে পড়েছে সড়কটি। সড়ক জুড়ে তৈরি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ ও ছোট-বড় গর্ত। কোথাও কোথাও বিটুমিন সরে গিয়ে হয়ে পড়েছে এবড়োথেবড়ো। ফলে ফের দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকার সাধারণ মানুষ, চালক ও পথচারীরা।

খুলনা এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের সংযোগ সড়ক কৈয়াবাজার থেকে খুলনা শহরের রায়েলমহল সুইসগেট পর্যন্ত সড়কের দৈর্ঘ্য ৫ দশমিক ৮ কিলোমিটার। সংস্কারের অভাবে সড়কটি দীর্ঘবছর বেহাল হয়ে পড়ে। ভোগান্তি কমাতে ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রথম দফায় রায়েলমহল সুইসগেট থেকে কৈয়াবাজার অভিমুখে ৩ দশমিক ২

কিলোমিটার সড়ক সংস্কার করা হয়। ৭ কোটি ৩৭ লাখ ৫৯ হাজার ৮০৬ টাকা ব্যয়ে সংস্কারকাজ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এসআর ট্রেডার্স। কিন্তু কাজ শেষ না হতেই বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়। চলতি বর্ষা মৌসুমে গর্তের সংখ্যা বেড়েছে, বেড়েছে গর্তের আয়তনও। এরপর ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাকি সড়কের মধ্যে ২ দশমিক ১ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার করা হয়। ৩ কোটি ১ লাখ ৭০ হাজার ২৯১ টাকা ব্যয়ে সংস্কারকাজটি করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মোহাম্মদ ইউনুচ অ্যান্ড ব্রাদার্স।

তবে এ অংশটুকুও সংস্কারের মাত্র ছয় মাসের মধ্যে অসংখ্য ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। বিটুমিন উঠে সড়কে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৭৯ লাখ টাকা ব্যয়ে বাকি ৫২৫ মিটার সড়ক সংস্কার করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শওকত হোসেন। কিন্তু সংস্কারের মাত্র দুই মাসে পুরো অংশেই পুকুরের মতো বড় বড় খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। কোথাও কোথাও বিটুমিন সরে গিয়ে দলা হয়ে এবড়োথেবড়ো হয়ে পড়েছে।

সংস্কারব্যয় বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ৫ দশমিক ৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে সড়কটি ৩ দশমিক ৭ মিটার থেকে ৫ দশমিক ৫ মিটার পর্যন্ত চওড়া। তিন ভাগে সড়কটি সংস্কারে খরচ হয়েছে ১১ কোটি ১৮ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কিলোমিটারে গড় হিসাবে খরচ হয়েছে ১ কোটি ৯৩ লাখ টাকা।

এত টাকা ব্যয় হওয়ার পরও দ্রুত সময়ে সড়ক নষ্ট হয়ে গেছে, যা নিয়ে জনমনে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করে জানান, বিটুমিন মানসম্মত ছিল না। পাথরের সঙ্গে বিটুমিন বেশি তরল করে বেশি জায়গায় কার্পেটিং করা হয়েছে। পাথরে বিটুমিনের পরিবর্তে প্রচুর পরিমাণ পোড়া মবিলও ব্যবহার করা হয়েছে। অন্যদিকে সড়কটির পিঠ উঁচু করা হয়নি। কোথাও উঁচু আবার কোথাও নিচু রয়েছে। নিচু স্থানে বৃষ্টির পানি জমে থাকে। এসব কারণেই মূলত দ্রুত সড়ক নষ্ট হয়ে গেছে।

চলাচল স্বাভাবিক রাখতে বেশি খারাপ হয়ে যাওয়া অংশ ইতিমধ্যে কয়েক দফায় মেরামতও করা হয়েছে। তবু টিকছে না। সড়কটির

সিংহভাগ অংশ পড়েছে ডুমুরিয়া উপজেলার গুটুদিয়া ইউনিয়নে। গুটুদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ তুহিনুল ইসলাম জানান, সড়কটি সংস্কারে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার হয়েছে। আগের পুরনো পিচ গাড়ি দিয়ে চাষের মতো করে খোঁড়া হয়। তার ওপর নামমাত্র খোয়া ও বালুর সংমিশ্রণের মেকাডাম করা হয়। এরপর বিটুমিন দিয়ে কার্পেটিং করা হয়েছে। বিটুমিনের মানও ভালো না। অন্যত্র থেকে বিটুমিন প্রস্তুত করে সড়ক কার্পেটিং করা হয়। পুরুত্বও কম দেওয়া হয়েছে। সে সময় প্রতিবাদ করলেও ঠিকাদার ও প্রকৌশলী কেউ কথা শোনেনি। কারো কোনো তোয়াক্কা না করে এই কাজ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে চেষ্টা করেও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

ডুমুরিয়া উপজেলা প্রকৌশলী মুহাম্মদ দারুল হুদা জানান, আমি এখানে যোগদানের আগে কাজটি হয়েছে। সড়কটির কার্পেটিং উঠে বেশ কয়েক জায়গায় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত স্থান মেরামত করা হবে।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft