প্রকাশ: সোমবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৫, ৬:৩০ পিএম

ঋণের চাপে আকবর হোসেন (৫০) নামের আরো এক কৃষক আত্মহত্যা করেছেন। রাজশাহীর মোহনপুরের খাড়ইল গ্রামের একটি পান বরজে গিয়ে হলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি।
আজ সোমবার সকালে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ।
নিহত কৃষক আকবর হোসেন খাড়ইল গ্রামের বাসিন্দা। সংসারে তার স্ত্রী-সন্তান রয়েছে।
নিহত আকবর হোসেনের পারিবারিক সূত্র জানায়, কৃষি কাজ করে দিনাতিপাত করতেন কৃষক আকবর। কিছুদিন হলো এনজিও এবং চড়া সূদে
মহাজনী ঋণ নিয়ে পান চাষ করে ছিলেন। বাজারে পানের দাম কম থাকায় ঋণের কিস্তি ও সুদের টাকা দিতে পারছিলেন না। এতে আকবর আলী মানিসকভাবে ভেঙে পড়েন। পাওনাদাররা চাপ দেওয়ায় আত্মহত্যার পথ বেঁছে নেন এই কৃষক।
আকবর আলীর ছেলে সুজন শাহ বলেন, ৪ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে তার পিতা পান চাষ করেন। কিন্তু এবার পানের দাম খুবই কম যাচ্ছে। কাঙ্খিত দামে পান বিক্রি করতে না পেরে ঋণ পরিশোধ করা নিয়ে হিমশিম খাচ্ছিলেন তারা। একবিঘা জমির পান বিক্রি করে প্রতি সপ্তাহে ৫
হাজার টাকা কিস্তি আর সংসারের খরচের যোগান দেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। কিন্তু এনজিওর লোকজন কিস্তির জন্য অব্যহতভাবে চাপ দিচ্ছিলেন। সেই চাপ সইতে না পেরে তার পিতা আত্মহত্যা করেছেন।
মোহনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতাউর রহমান বলেন, একটি পান বরজের ভেতর কৃষক আকবর আলীর লাশটি ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল। স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে আইনি প্রক্রিয়া মেনে লাশটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় আকবর আলীর মৃত্যুর ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্য মামলা দায়ের হয়েছে।
এর আগে রাজশাহীর পবা উপজেলার বামনশেখর এলাকায় ঋণের চাপে এবং খাওয়ার অভাবে ১৫ আগস্ট একই পরিবারের তিনজনকে হত্যার পর নিজে আত্মহত্যা করেন মিনারুল নামের এক ব্যক্তি। এ ঘটনায় থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়।