প্রকাশ: শনিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৫, ১:২৪ পিএম আপডেট: ১৬.০৮.২০২৫ ১:৩৮ পিএম

চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা পর্যন্ত পাইপলাইনে জ্বালানি তেল পরিবহনের প্রকল্পটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হচ্ছে আজ শনিবার। ঢাকা পর্যন্ত পাইপলাইনে জ্বালানি তেল পরিবহন প্রকল্পের (সিডিপিএল) পরিচালক প্রকৌশলী আমিনুল হক বলেন, তেল পরিবহনে শতাধিক কোস্টাল ট্যাংকারে ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগত। এখন ১২ ঘণ্টায় জ্বালানি তেল নারায়ণগঞ্জের ডিপোতে পৌঁছাবে। খারাপ আবহাওয়ার কারণেও নৌপথে ট্যাংকারে তেল পরিবহন বিঘ্নিত হতো এবং ঝুঁকির সৃষ্টি হতো। এই পাইপলাইন সেই সমস্যার সমাধান করে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
উদ্বোধনের পর নদীপথে অয়েল ট্যাংকারের পরিবর্তে পাইপলাইনেই নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা ডিপোতে জ্বালানি তেল পাঠানো হবে। ২৪২ কিলোমিটার পাইপলাইনে চট্টগ্রাম থেকে প্রতি ঘণ্টায় ২৬০-২৮০ টন ডিজেল যাবে নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল ডিপোতে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে। ২০১৮ সালের অক্টোবরে একনেকে অনুমোদন পাওয়া ২ হাজার ৮৬১ কোটি টাকার এই প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২০ সালের ডিসেম্বরে। করোনা পরিস্থিতিতে সময় বাড়িয়ে চলতি বছরের মার্চে কাজ শেষ হয়, খরচ বেড়ে দাঁড়ায় ৩ হাজার ৬৫৩ কোটি টাকা। প্রকল্পে চট্টগ্রাম থেকে নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল পর্যন্ত ১৬ ইঞ্চি ব্যাসের ২৪১.২৮ কিলোমিটার এবং গোদনাইল থেকে ফতুল্লা পর্যন্ত ১০ ইঞ্চি ব্যাসের ৮.২৯ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ পাইপলাইন স্থাপন করা হয়েছে। ২২টি নদী ও খাল পেরিয়ে যাওয়া এ ২৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ নেটওয়ার্কে মোট ৯টি স্টেশন এবং ২৮৬.৮৮ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। পথে কুমিল্লার মোগবাড়ীতে আধুনিক ও স্বয়ংক্রিয় ডিপো, নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে পদ্মা ও মেঘনা পেট্রোলিয়ামের রিজার্ভার এবং ফতুল্লায় যমুনা ও মেঘনা পেট্রোলিয়ামের রিজার্ভার নির্মাণ করা হয়েছে।
পেট্রোলিয়াম ট্রান্সমিশন কোম্পানির প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক মো. আমিনুল হক জানান, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে পরীক্ষামূলক পরিবহনে কোনো সিস্টেম লস ছাড়াই প্রায় ৫ কোটি লিটার ডিজেল সরবরাহ করা হয়। পাইপলাইনের বার্ষিক পরিবহন ক্ষমতা ২.৭ থেকে ৩ মিলিয়ন মেট্রিকটন, যা ভবিষ্যতে ৫ মিলিয়ন মেট্রিক টনে উন্নীত করা সম্ভব। বর্তমানে প্রতি ঘণ্টায় ৩৫০ মেট্রিক টন তেল পরিবহন সম্ভব।
আগে নৌপথে তেল পরিবহনে মাসে ১১০টিরও বেশি ট্যাংকার ব্যবহার হতো, বিপিসির বার্ষিক খরচ হতো প্রায় ৩২৬ কোটি টাকা। পাইপলাইন চালুর পর খরচ নেমে আসবে ৯০ কোটি টাকায়। বছরে সাশ্রয় হবে অন্তত ২২৬ কোটি টাকা। এছাড়া সিস্টেম লস ও চুরি রোধ করেও খরচ কমবে। পাইপলাইনের নিরাপত্তা ও কার্যক্রম মনিটরিংয়ের জন্য চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ স্থাপন করা হয়েছে। সেখান থেকে ঢাকায় জ্বালানি সরবরাহের প্রতিটি ধাপ পর্যবেক্ষণ করা হবে।
জা/উ