পদ্মার পানি বিপৎসীমার কাছে, আতঙ্কে স্থানীয়রা
রাজশাহী সংবাদদাতা
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১২ আগস্ট, ২০২৫, ৮:৪০ পিএম

অব্যাহতভাবে বেড়েই চলেছে পদ্মা নদীর পানি, এতে করে প্লাবিত হয়েছে পদ্মার তীরবর্তী এলাকা। নিম্নাঞ্চল তলিয়ে যাওয়ায় নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছে অন্তত শতাধিক পরিবার। ডুবে গেছে পদ্মার বিতৃর্ণ চর। চরের মানুষও শহরের পথ ধরেছেন। ইতিমধ্যে পদ্মার পানি রাজশাহীর ‘টি-বাঁধ’ এলাকায় প্রবেশ করেছে।

রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, পদ্মা নদীর রাজশাহী এলাকায় পানি বাড়তে শুরু করে গত মাসের শেষের দিকে। রাজশাহীতে পদ্মা নদীর পানির বিপৎসীমা ১৮ দশমিক শূণ্য ৫ মিটার। গত তিন দিনে পদ্মার পানির উচ্চতা বেড়েছে প্রায় ১ মিটার। অর্থাৎ রোববার সকাল ৬টায় পদ্মা নদীর পানির উচ্চতা ছিল ১৭ দশমিক ১৩, সোমবার সকালয় ৬টায় বেড়ে ১৭ দশমিক ৩২ এবং মঙ্গলবার ১৭ দশমিক ৪৩ মিটার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, প্রতিদিন সকাল ৬টা, ৯টা, দুপুর ১২, বেলা ৩টা ও সন্ধ্যা ৬টায় পানির উচ্চতা মাপা হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের গেজ রিডার এনামুল হক বলেন, বিপৎসীমা ১৮ দশমিক শূণ্য ৫ মিটার ধরা আছে। মঙ্গলবার সকাল ৬টায় পানির উচ্চতা মাপা হয়েছে ১৭ দশমিক ৪৩ মিটার। তার মানে পদ্মা নদীর পানি এখন বিপৎসীমার খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পদ্মার পানিতে রাজশাহী শহরের তালাইমারী, কাজলা, পঞ্চবটি, পাঠানপাড়া, লালনশাহ মঞ্চ, শ্রীরামপুরসহ নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। প্লাবিত এলাকার বাসিন্দারা বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন। এর মধ্যে সব চেয়ে বেশি দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়ছে তালাইমারী ও পঞ্চবটি এলাকায়। 

স্থানীয়রা বলছেন, সোমবার পদ্মা পাড়ের কিছু কিছু এলাকা জলমগ্ন হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে সেসব এলাকায় হাঁটুপানি হয়েছে। প্লাবিত এলাকার মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছেন।

স্থানীয় বিদ্যালয়ে আশ্রয় নেওয়া জুম্মন মহলদার বলেন, সোমবার রাতে পদ্মা তীরবর্তী তার বাড়িতে পানি উঠেছে। জিনিসপত্র ঘরের ডাবের সাথে ঝুলিয়ে রেখেছেন। পরিবার নিয়ে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিবেন তিনি।

স্থানীয় মিরা খাতুন জানালেন, পদ্মার পানি হু হু করে বাড়ছে। গতকাল সোমবার দিবাগত রাতে রাত দুইটার দিকে তাদের ঘরে পানি প্রবেশ করেছে। ঘর প্লাবিত হওয়ায় তারা সেই রাতে ঘুমাতে পারেননি। সকাল থেকে ঘরের জিনিসপত্র সরিয়ে অন্যত্র নিচ্ছেন। 

স্থানীয় লাইলি বেগম জানান, বাড়ি নিচু এলাকায় হওয়ায় দুইদিন আগেই বাড়ি ছেড়েছেন তিনি। এলাকায় সাপের ভয়ও রয়েছে। গত পাঁচ বছরের মধ্যে এবার সবচেয়ে বেশি পানি হয়েছে। যার কারণে তারা ভীত ও আতংকিত। 

রাজশাহী শহরের দক্ষিণে ভারত সীমান্ত ঘেঁষা চরখিদিরপুর ও খানপুরের বেশির ভাগ অংশ ডুবে গেছে। পদ্মার মাঝামাঝি অবস্থানের মিডল চরটিও পুরোপুরি ডুবে গেছে। তলিয়ে যাওয়া এসব এলাকার মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে গবাদিপশু নিয়ে রাজশাহী শহররক্ষা বাঁধে আশ্রয় নিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজশাহী পদ্মাপাড়ের  অন্যতম জনপ্রিয় বিনোদন স্থান ‘টি-বাঁধ’ এলাকায় পদ্মার পানি বিপৎসীমায় পৌঁছেছে। একরণে পানি উন্নয়ন বোর্ড সোমবার থেকেই এই এলাকায় সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে। ভ্রাম্যমান দোকানগুলোও সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে। তবে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ওই মঙ্গলবার সকালে অনেকেই সেখানে প্রবেশ করেছেন। ঝুঁকি নিয়ে অনেকেই সেখানে গিয়ে ছবি তুলছেন।

রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুর রহমান বলেন, ভারতে প্রবল বৃষ্টিপাত হয়েছে। একারণের ফারাক্কার বেশির ভাগ জলকপাট খুলে দেওয়ায় পদ্মার পানি বেড়েছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য ‘টি-বাঁধ’ এলাকায় প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড ও টুরিস্ট পুলিশ।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft