সিংগাইরে প্রতারণা ও নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ: জড়িতদের শাস্তি দাবি
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ১১ আগস্ট, ২০২৫, ৯:৪৭ পিএম

মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর উপজেলার ধল্লা গ্রামের গরিব পরিবারের আকরাম আলী বেপারীর কন্যা সন্তান লাভলী আক্তার (২১)। বিয়ে হয় পাশ্ববর্তী নয়াডাঙ্গী গ্রামের মো. হাফিজ উদ্দিন গোমস্তার (মঙ্গল) বেকার ছেলে মো. আরিফুল ইসলামের সঙ্গে। কিন্তু বিয়ের দুই মাস পেরুতেই যৌতুকের দাবিতে তার উপর নেমে আসে শ্বশুরবাড়ির নির্যাতনের খড়গ। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় গৃহবধূ লাভলীকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে তার মা-ভাই ও আত্মীয়রা। দিনের পর দিন অনুনয়-বিননয় করলেও শ্বশুরবাড়ির কেউ তাকে আর সেখান থেকে নেয়নি। এভাবেই কেটে যায় প্রায় চার বছর। মামলা করা হলেও এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি হওয়ায় বিচার আর শেষ হয়না। এভাবে কেটে যাচ্ছে দিনের পর দিন কিন্তু লাভলীর পরিবার সুবিচার এখনও পায়নি। কবে পাবে তাও জানেনা এই সরল মনের নিরীহ এই পরিবার।

জানা যায়, গত ২০২১ সালের ২২ জানুয়ারি মুসলিম শরীয়াতের বিধান মতে মোসা. আভলী আক্তারকে ৫ লাখ টাকা দেনমোহরানা ধার্য্য করে সম্পূর্ণ বাকীতে রেজিস্ট্রি কাবিনমূলে বিয়ে করেন মো. আরিফুল ইসলাম। এ সময় লাভলীর পিতা ও আত্মীয়-স্বজন মিলে উপঢৌকন হিসেবে প্রায় ৫ লাখ টাকার জিনিসপত্র বুঝিয়ে দেয় বেকার ছেলে আরিফুলের পরিবারকে। শন্তিপূর্ণভাবে দুই মাস কেটে যায়। কিন্তু তৃতীয় মাসের শুরুতেই দেখা দেয় অশান্তি। এ সময় বিদেশে যাওয়ার কথা বলে আরিফুল ও তার পরিবারের সদস্যরা লাভলীকে তার বাপের কাছ থেকে টাকা এতে দিতে বলে। বিষয়টি লাভলী তার পরিবারকে জানালে তারা লাভলীর ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তিন লাখ টাকা ধার হিসেবে দেয়। এ সময় 

আরিফুল জানায়, এই টাকা বিদেশে গিয়েই পরিশোধ করে দেবে। পরবর্তীতে আরিফুল ও তার পরিবার পুনরায় ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। লাভলীর পরিবার এতো টাকা দিতে পারবে না বলে জানায়। এরপ্রেক্ষিতে লাভলীর উপর নেমে আসে নির্যাতনের খড়গ। তাকে বিভিন্নভাবে চরম কষ্ট দিতে থাকে। তবুও লাভলী সংসারের কথা চিন্তা করে নিষ্ঠুর নির্যাতন-নিপীড়ন সহ্য করে সংসার করতে থাকে। এক পর্যায়ে লাভলীকে নির্দয় ও অমানবিকভবে লোহার রড দিয়ে একাধিক আঘাত করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলা-ফুলা ও জখম করে এবং গলা টিপে ধরে তাকে হত্যার চেষ্টা করে। এতে সে গুরুতর আহত হলে তার পরিবারের লোকজ এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে সে তার পিতার বাড়িতে কিছু দিন শয্যাশায়ী থাকে। বিদেশে যাওয়ার পর আরিফুলের কাছে সেই ধারের তিন লাখ টাকা পরিশোধের কথা বললে সে বিভিন্নভাবে টালবাহানা শুরু করে। এক পর্যায়ে আরিফুল ও তার পরিবারের সদস্যরা তাকে মানুসিক ও শাররীক নির্যাতন শুরু করে। পরবর্তীতে গত ২০২৩ সালের ১৮ মার্চ লাভলীর পিতা আরিফুলের পরিবারকে তাদের পুত্রবধূকে এখানে এসে নিয়ে যেতে বললে তারা সাফ জানিয়ে দেয় ৫ লাখ টাকা যৌতুক না দিলে তাদের ছেলেকে অন্যত্র বিয়ে করাবেন।

আরও জানা যায়, ভুক্তভোগী গৃহবধূ লাভলী আক্তার তার পিতার বাড়িতে থাকাবস্থায় তার স্বামী আরিফুল ও তার পরিবার কোন ধরণের খোঁজ-খবর নেয়নি বা ভরণপোষণের জন্য কোনো টাকাও দেয়নি। পরবর্তীতে বিভিন্ন উপায়ে লাভলীর পরিবার জানতে পারে লাভলীর শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে আর নেবে না। এছাড়াও স্বামীর পরিবার তার উপর যে অত্যাচার চালিয়েছে তা যেন কাউকে না বলে সে ব্যাপারে বার বার হুঁশিয়ার দিতে থাকে। এ পর্যায়ে উপায়ন্তর না পেয়ে লাভলী আক্তার তার অধিকারের দাবিতে মানিকগঞ্জ আদালতে দুইটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-২১২/২০২৩ তারিখ: ০৩/০৪/২০২৩ ইং এবং সিআর মামলা নং- ২১৩ (সিং) ২০২৩, তারিখ: ২৯/০৩/২০২৩ ইং)।

এ প্রসঙ্গে ভুক্তভোগী গৃহবধূ মোসা. লাভলী আক্তার বলেন, আমার পরিবার সহজ-সরল হওয়ায় আরিফুলের পরিবার প্রতারণা করে তিন লাখ টাকা নিয়ে আর ফেরত দেয়নি। বিদেশে যাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে আরিফুলের সাথে কথা বললে সে তার ফোন নাম্বারটি ব্লক করে দেয় এবং শ্বশুরবাড়ির কেউ আর যোগাযোগ করেনি। এদিকে শুনতে পাচ্ছি আমার স্বামী হওয়া সত্ত্বেও আরিফুল বেআইনিভাবে তার এক আত্মীয়কে বিয়ে করে সংসার করছে। বিষয়টি তদন্ত করলে বের হবে। মামলা দায়ের করার পর আসামীরা প্রভাবশালী হওয়ায় আমার পরিবারকে মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে। এতে করে আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি বলে জানান তিনি।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft