প্রকাশ: শনিবার, ২ আগস্ট, ২০২৫, ৭:২৯ পিএম

একটি অটোভ্যান ছিনতাই করতে ভ্যানচালক (২০) জিহাদের সাথে বন্ধুত্ব গড়ে তোলেন সাগর প্রামাণিক ও মো. সুলতান। বন্ধুত্ব গভীর হলে তিনজন মিলে মাদক সেবনেও জড়িয়ে পড়েন। এরপর জিহাদকে খুন করে অটোভ্যানটি ছিনিয়ে নেন তারা।
আজ শনিবার বেলা ১১টার দিকে হত্যাকাণ্ড নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানায় র্যাব-৫।
র্যাব জানায়, বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) সিংড়ার ইটালি ইউনিয়নের কলেজপাড়ার বিলে থেকে ভ্যানচালক জিহাদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মচনে তদন্ত শুরু করে র্যাবের গোয়েন্দারা। শুক্রবার রাতে দুই বন্ধু সাগর প্রামাণিক ও মো. সুলতানকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। তাদের দেওয়া তথ্যে উদ্ধার করা হয়েছে ছিনতাই হওয়া ভ্যান ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামত।
র্যাব ও স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, মো. সাগর প্রামাণিক (১৮) ও মো. সুলতান প্রামাণিক (১৯) নাটোরের সিংড়া উপজেলার চৌগ্রাম ইউনিয়নের বড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। হত্যাকাণ্ডের শিকার ভ্যানচালক জিহাদও একই গ্রামের বাসিন্দা।
র্যাব-৫-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাসুদ পারভেজ আসামিদের বরাত দিয়ে বলেন, ভ্যানচালক জিহাদের লাশটি হাত ও মুখ বাঁধা অবস্থায় বিলের পানি থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল। লাশটি ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। গুরুত্ব বিবেচনায় মামলাটির তদন্ত শুরু করে র্যাব। গোয়েন্দা নজরদারি আর তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারে দ্রুত সময়ের মধ্যেই হত্যাকারীদের শনাক্ত করতে পারেন তারা। গতকাল শুক্রবার (১ আগস্ট) রাতে অভিযান চালিয়ে বাড়ি থেকেই দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুলতান ও সাগর তাদের বন্ধু জিহাদকে হত্যার কথা স্বীকার করেন।
তাদের বরাত দিয়ে অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাসুদ পারভেজ আরো বলেন, ভ্যানচালক জিহাদের সঙ্গে মাস চারেক আগে বন্ধুত্ব গড়ে তোলেন সাগর ও সুলতান। তিন বন্ধু মিলে বিভিন্ন স্থানে গিয়ে মাদকও সেবন করেছেন। তবে সাগর ও সুলতানের আর্থিক দৈন্যতা ছিল। বিশেষ করে সাগরের স্ত্রী সন্তানসম্ভবা। স্ত্রীর ওষুধ ও সংসারের খরচ জোগাতে সাগর ব্যপকভাবে আর্থিক সংকটে পড়েন। বেকার থাকায় সুলতানও হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। এসব কারণে ভ্যানটি ছিনিয়ে নিতে পরিকল্পীতভাবে বন্ধু জিহাদকে হত্যা করেন।
জানা যায়, ৩০ জুলাই সন্ধ্যায় সিংড়ার চৌগ্রাম বাজারে দেখা করেন তিন বন্ধু। সুলতান ও সাগর আগে থেকেই ঘুমের ওষুধ নিয়েছিলেন। কোমল পানীয়র সাথে ওষুধ মিশিয়ে জিহাদকে পান করান। পরে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে জিহাদকে তার অটোভ্যানে নিয়ে চলনবিলে যান। পথে কোমলপানীয় পান করে অচেতন হয়ে পড়েন জিহাদ। এরপর ইটালি ইউনিয়নের সাতপুকুরিয়া বাজারসংলগ্ন একটি নির্জনে ভ্যানটি রেখে অচেতন জিহাদের গলায় টিউব পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে গামছা দিয়ে হাত ও মুখ বেঁধে বিলের পানিতে ফেলে দেন। হত্যাকাণ্ডের পর জিহাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি নিয়ে নেন সুলতান। সাগর ভ্যানটি বিক্রির জন্য ইটালি গ্রামের এক মেকানিকের বাসায় রেখে আসেন। তবে র্যাবের অভিযানে ভ্যান, মোবাইল ফোন হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত টিউব উদ্ধার করেছে। আসামিদের সিংড়া থানায় হস্তান্তর করার কথা জানায় র্যাব।