প্রকাশ: বুধবার, ২৩ জুলাই, ২০২৫, ৬:৫৫ পিএম

সামনে হরেক রকমের সবজি, তবে দোকানদারের আসনে বসে আছে ৮বছরের ও ৩ বছরের দুই শিশু। দোকানে তেমন কোন ভীড় নেই। দোকানে বসে থাকা বাচ্চাদের ভাষ্যমতে বারোটার পর থেকে বিকাল তিনটা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে মাত্র ৬০ টাকা। এভাবেই তিন দিন ধরে নকলা পৌর শহরের কাঁচাবাজার এলাকায় খোলা আকাশের নিচে বাবার দোকান চালিয়ে সংসারের বোঝা মাথায় তুলে নিয়েছেন সাবিব (৮) ও সাজিদ (৩) দুই সহোদর।
গতকাল বুধবার সরেজমিনে গেলে এই প্রতিবেদকের প্রশ্নের জবাবে ৮ বছর বয়সী বড় ভাই সাবিব বলেন, আব্বু জেলে, পেটের দায়ে দোকানে বসছি। দোকানে তেমন কাস্টমার আসে না, যা বিক্রি করি তা দিয়ে পরিবারের খরচ হয় না। কাঁচা সবজি বিক্রি করতে না পারলেও নষ্ট হয়ে যাবে। পাশে বসে দোকানেই খেলা করছিল ৩বছর বয়সী সাজিদ। সে সংসারের অতশত বোঝে না, তার মনে এক প্রশ্ন বাবা কবে আসবে?
সূত্র জানায়, গেল বছরের ১২ ডিসেম্বর বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪ এর ১৫(৩) ধারা মোতাবেক নকলা থানায় একটি মামলা করা হয়; যার নং ৬। ওই মামলায় সন্দেহজনক অজ্ঞাত আসামি হিসেবে নকলা পৌর শহরের সবজি বিক্রেতা শাখাওয়াত হোসেন ফারুককে গত শনিবার রাত সাড়ে এগারোটার দিকে দোকান বন্ধ করার সময় গ্রেপ্তার করা হয়। ফারুক নকলা পৌর শহরের একজন সবজি বিক্রেতা ছিলেন। পরে রোববার দুপুরের দিকে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে প্রেরণ করে পুলিশ।
শাখাওয়াত হোসেন ফারুক গ্রেপ্তারের পর থেকে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে তার পরিবারের উপর। ফারুকের একার সবজি বিক্রির টাকায় চলতো ৭ জনের সংসার। তিনি গ্রেপ্তার হওয়ার পর ছোট্ট দুই বাচ্চা স্বাভাবিকভাবে দোকান চালাতে পারছেন না। যার ফলে দোকানে থেকে আয় করা টাকা দিয়ে সংসারের ভাত খরচই উঠেছে না। সহজ সরল নিরীহ প্রকৃতির লোক সবজি ব্যবসায়ী শাখাওয়াত হোসেন ফারুককে গ্রেফতার পূর্বক কারাগারে প্রেরণের পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিন্দা, প্রতিবাদসহ দ্রুত কারামুক্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় অনেকেই।