প্রকাশ: রোববার, ২০ জুলাই, ২০২৫, ৯:১৮ পিএম

চোরাচালান ও মানবপাচার রোধে রেকর্ড সাফল্য অর্জন করেছে ঝিনাইদহের মহেশপুর ৫৮ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন (বিজিবি)। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে ঝিনাইদহ ও চুয়াডাঙ্গার সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিজিবি প্রায় ৩০ কোটি টাকার চোরাই পণ্য, মাদক, অস্ত্র ও সোনা জব্দ করেছে। এ সময় বিভিন্ন অপরাধে দুই হাজারেরও বেশি ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৮ জন ভারতীয় নাগরিক রয়েছে।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, এই সময়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়ার সময় ১ হাজার ১৩৮ জন এবং ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশকালে ৯৭৯ জন অনুপ্রবেশকারীকে আটক করা হয়। এ ছাড়া মানবপাচারে জড়িত সন্দেহে ৩৩ জন দালালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে শংকর অধিকারী নামে একজন ভারতীয় পাচারকারীও রয়েছে।
মহেশপুর ৫৮ বিজিবির উপ-অধিনায়ক অতিরিক্ত পরিচালক আবু হানিফ সিহানুক জানান, এ সময় ৭ হাজার ৯২০ বোতল বিদেশি মদ, ৯ হাজার ৫১৭ বোতল ফেনসিডিল, ৬৮ কেজি গাঁজা, ৪৫ হাজার ৩০০ পিস ইয়াবা, ৫ কেজি ১১ গ্রাম কোকেন ও ৬ কেজি ৪০৫ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়েছে। এসব মাদকের বাজারমূল্য প্রায় ২৪ কোটি ১৩ লাখ টাকা।
তিনি আরও জানান, ১৭ মার্চ থেকে ১৮ জুলাই পর্যন্ত সময়ে পাঁচটি পৃথক অভিযানে ৩ কেজি ৬৫৪ গ্রাম সোনা উদ্ধার করা হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা। একই সময়ে ২টি বিদেশি পিস্তল, ৪টি ওয়ান শুটার গান ও ১৪ রাউন্ড গুলিও জব্দ করা হয়।
এ ছাড়া যৌথ টাস্কফোর্স অভিযানে ৯০ লাখ টাকার ভারতীয় শাড়ি, শাল, থ্রি-পিস, চায়না জাল ও মদ উদ্ধার করা হয়েছে এবং জরিমানা হিসেবে আদায় করা হয়েছে ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
ঈদ-উল-আজহা উপলক্ষে সীমান্ত দিয়ে গরু ও কোরবানির চামড়া পাচার প্রতিরোধে বিজিবি কঠোর নজরদারি বজায় রাখে। ফলে ওই সময়ে চোরাচালানের কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে জানায় বিজিবি।
বিজিবির উপ-অধিনায়ক বলেন, সীমান্ত রক্ষার পাশাপাশি চোরাচালান ও মানবপাচার প্রতিরোধে আমাদের কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।