প্রকাশ: শনিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৫, ৮:৩০ পিএম

"আমার সহজ সরল পোলাডারে ওরা গুলি কইরা মারছে। একবছর অইয়া গেল পোলা হরাইছি। দেশ তো ঠান্ডা অইলো আমার পোলারে তো আর ফিইরা পাইলাম না"। বুকে চাঁপা কষ্ট নিয়ে এমন কথাগুলো বলছিলেন কোটা সংস্কার আন্দোলনে নিহত আসিফুর রহমান আসিফের মা ফজিলা খাতুন। তিনি আরো বলেন, পোলার কথা খুব মনে পড়ে। ছেলে হত্যার বিচারও দাবি করেন তিনি।
সূত্র জানায়, গেল বছরের ১৯ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনে উত্তপ্ত রাজধানীর মিরপুরে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন গার্মেন্টসকর্মী আসিফুর রহমান আসিফ (১৯)। আসিফ শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার রামচন্দ্রকুড়া ইউনিয়নের কেরেঙ্গাপাড়া গ্রামের আমজাদ হোসেন ও ফজিলা খাতুন দম্পতির ২য় ছেলে।
আসিফের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ, এ উপলক্ষে পরিবারের সবশেষ পরিস্থিতি জানতে গতকাল তার বাড়িতে খোঁজ নেয় দৈনিক জবাবদিহি। এসময় আসিফের ছোট ভাই-বোন ও তার মা ছুটে আসে প্রতিবেদকের কাছে, জানায় তাদের কষ্টের স্মৃতি।
আসিফুরের মা ফজিলা খাতুন জানান, ২ছেলে চার মেয়ের মধ্যে আসিফ ছিল দ্বিতীয়। বাবা আমজাদ হোসেন ছোটখাটো ব্যবসা করে যখন পরিবারের খরচ মেটাতে পারছিল না, তখন আসিফ ঢাকায় গিয়ে গার্মেন্টসে চাকরি নেয়। ১৩ হাজার টাকা বেতনের চাকরিতে ভালোই দিন চলছিল।
হঠাৎ গত বছরের ১৯ জুলাই বিকেলে বন্ধুদের সাথে দেখা করার জন্য বাড়ি থেকে বের হয় আসিফুর। পরে রাস্তাতেই কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে পুলিশের গুলি এসে তার মাথায় লাগে। সেখান থেকে স্থানীয়রা তাকে মিরপুর আলোক হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে তার বাবা আমজাদ আলী ফোনে ছেলের এক্সিডেন্টের খবর শুনে আলোক হাসপাতাল গিয়ে দেখে আসিফের মাথার ডানপাশে গুলি লেগেছে। সেখান থেকে ছেলেকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে ব্যান্ডেজ করিয়ে, সেখান থেকে রিকশায় নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার আসিফকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে লাশ নিয়ে এসে গ্রামের কবরস্থানে দাফন করা হয়।
স্মৃতিচারণের সময় আসিফের পরিবারের সদস্যদের চোখ থেকে পানি পড়ছিল।
পরবর্তীতে সরকার পতনের পর ২ নভেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২০১জনকে আসামি করে ঢাকার একটি আদালতে আসিফুরের বাবা আমজাদ হোসেন বাঁদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের কিছুদিন পর আসিফের গ্রামের বাড়ি কেরেঙ্গাপাড়া কবরস্থান থেকে মরদেহ উত্তোলন করা হয় সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন সম্পন্নের জন্য।
তবে এ মামলার বিচার কবে হবে জানে না কেউ। আসিফ হত্যা মামলার দ্রুত বিচার দাবি তার পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসীর।