প্রকাশ: শুক্রবার, ৪ জুলাই, ২০২৫, ৬:৪২ পিএম

রাস্তার মোড়ে মোড়ে বসে লেবু বিক্রি করেন মোকছেদ আলী (৮০)। কিন্তু তার বাড়িতে ছিল না কোন টিউবওয়েল, টিউবওয়েল স্থাপনের সামর্থ্যও ছিল না। বৃদ্ধের দুই ছেলে ঢাকা থাকলেও কখনো খোঁজ নেয় না বলে জানা গেছে। স্ত্রীকে নিয়ে খাবার পানির দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিল এই বৃদ্ধার।
সূত্র জানায়, মোকছেদ আলী শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার বাঘবেড় ইউনিয়নের সন্ন্যাসীভিটা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি উপজেলার পৌর শহরের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে বসে লেবু বিক্রি করেন। সে তার পরিবার নিয়ে প্রায় তিন-চার বছর ধরে অন্যের বাড়ি থেকে পানি এনে প্রাণ করছিল। সংকট নিরসনে একাধিকবার চেয়ারম্যান-মেম্বারের দ্বারস্থ হলেও হয়নি সমাধান।
অবশেষে স্বেচ্ছাসেবী ও দৈনিক জবাবদিহি প্রতিনিধি আমানুল্লাহ আসিফ এবং ভোরের বাণী প্রতিনিধি সারোয়ার হোসেনের মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আক্তার ববি'কে বিষয়টি জানান মোকছেদ আলী।
গতকাল শুক্রবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পক্ষ থেকে ৭০ ফুট গভীরস্থ একটি নলকূপ মোকছেদ আলীর বাড়িতে স্থাপন করে দেওয়া হয়।
উপকারভোগী মোকছেদ আলী বলেন, আমি লেম্বু বিক্রি করে সংসার চালাই। তাই একটা পানি খাওয়া কলের জন্য ৩/৪ বছর ধরে চেয়ারম্যান মেম্বার এর কাছে ঘুরতাছি, কেউ আমারে একটা পানি খাওয়ার কল দিল না। আমার নাতিনের মতো ছেলে দুইটাকে বললে তারা ইউএনও স্যারকে জানায়। পরে স্যার সব শুইনা আমারে একটা পানি খাওয়ার কল দিয়ে দিছে আজকে। এখন থেকে পানির জন্য আমার আর কষ্ট করে অন্যের বাড়ি যেতে হবে না। আল্লাহ ইউএনও স্যার আর দুই সাংবাদিকরে ভালো রাখুক।
এ বিষয়ে ইউএনও ফারজানা আক্তার ববি দৈনিক জবাবদিহিকে বলেন, প্রতিটি মানুষ নিরাপদ পানির অধিকার রাখে। একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে আমি চেষ্টা করেছি অসহায় এই পরিবারের পাশে দাঁড়াতে।