প্রকাশ: বুধবার, ২ জুলাই, ২০২৫, ৬:৪৭ পিএম

ফরিদপুরের সদর উপজেলার চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের আছিরউদ্দিন মুন্সির ডাঙ্গী এলাকায় পরকীয়ার জের ধরে প্রবাসী স্বামী আলমাস খান কে (৪০) হত্যা করার অভিয়োগ উঠেছে খোদ স্ত্রী হোসনেয়ারা বেগম (৩৩) এর বিরুদ্ধে। গত শনিবার দিবাগত রাতে তাকে হত্যা করা হয় বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর পুলিশ প্রধান আসামী তার স্ত্রী হোসনেয়ারা বেগমকে আটক করেছে। তবে এখনো আটক করতে পারেনি ঘটনার আরেক আসামী পরকীয়া প্রেমিক আলী শেখকে (৫৫)। ঘটনার পর নিহতের পিতা হাতেম খান বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
এদিকে এ ঘটনায় বুধবার (২জুলাই) সকালে হত্যার সঙ্গে জড়ীত পলাতক আসামী পরকীয়া প্রেমিক আলী শেখকে আটকসহ তাদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে এলাকাবাসী।
এ সময় নিহতের পিতা হাতেম খান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী প্রবাসীদল ফরিদপুর জেলা শাখার সভাপতি মির্জা প্রিন্স আলী সহ অন্যরা বক্তব্য রাখেন ।
এ সময় বক্তারা বলেন, আলমাস খান দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকাকালীন অবস্থায় স্ত্রী হোসনেয়ারা বেগম বিভিন্ন পরপরুষের সাথে পরকীয়া প্রেমে লিপ্ত হয়ে পড়ে। এ ঘটনা আলমাস খান জানার পরে তাকে নিষেধ করলে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে শুরু হয় মনোমালিন্য। আলমাছ বিদেশ থেকে বাড়িতে আসার পর থেকেই স্ত্রী তাকে পুনরায় বিদেশে চলে যাওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। আলমাছ বিদেশের যাওয়ার ব্যাপারে নিষেধ করলে শুরু হয় তার নির্যাতন। গত শনিবার দিবাগত রাতে স্বামীকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করা হয় । পরের দিন রবিবার সকালে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে।
তারা বলেন, পুলিশ ঘটনার সাথে জড়ীত থাকার সন্দেহে স্ত্রী হোসনেয়ারা বেগম কেআটক করলেও কথিত পরকীয়া প্রেমিক আলী শেখকে এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি। অতি দ্রত আলী শেখকে গ্রেফতার করে তাদের ফাঁসিতে ঝোলানোর দাবি জানান মানববন্ধন থেকে।
পরে এলাকার কয়েকশত নারীপুরুষ বিচারের দাবিতে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে এলাকা প্রদক্ষিণ করে।
এ বিষয়ে ফরিদপুরের কোতয়ালী থানার উপ-পরিদর্শক মোঃ আসাদুজ্জামান তালুকদার জানিয়েছেন, ঘটনার সঙ্গে সঙ্গেই মামলার প্রধান আসামি হোসনেয়ারা বেগমকে আটক করা হয়েছে।
এছাড়াও অন্য আসামি আলী শেখকে ধরতে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চলছে। হোসনেয়ারা বেগমের রিমান্ডের জন্য আবেদন করা হয়েছে । এই ঘটনার ব্যাপারে পুলিশ তৎপর রয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।