রৌমারীতে ব্রীজ নির্মাণের দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন
রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১ জুলাই, ২০২৫, ৫:৫৯ পিএম

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ও চর শৌলমারী ইউনিয়নের মধ্যবর্তী কাজাইকাটা এলাকায় হলহলিয়া নদীর উপরে ব্রীজ না থাকায় নদী পারাপারে ২৫ গ্রামের প্রায় ৬০ হাজার মানুষের চরম দূর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন থেকে একটি ব্রীজ নির্মাণের দাবি করে আসলেও কার্যকরি ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি প্রশাসন। 

এ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে ব্রীজের দাবিতে হলহলিয়া নদীর তীরে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কওে আসছেন এলাকাবাসি।

মঙ্গলবার ওই এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, কাজাইকাটা, আনন্দ বাজার, খেয়ারচর, মির পাড়া, খরানি,দক্ষিণ নামাজের চর, উত্তর নামাজের চর, চর গেন্দার আলগা, চৌদ্দখরি, খা পাড়া, ভাঙ্গা পাড়া, সাহেবের আলগা, আমবাড়ি, কাউনিয়ারচর, চর কাউনিয়ারচর, ধনতোলা, খোয়ার চর, ছাটকড়াই বাড়ি, দাঁতভাঙ্গাসহ আশপাশের অন্তত ২৫ টি গ্রামের প্রায় ৬০ হাজার মানুষ প্রতিদিন চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিয়ে নদী পারাপার হচ্ছেন।

উপজেলার কাজাইকাটা গ্রামের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হলহলিয়া নদীর উপর স্থানীয়দের উদ্যোগে ও স্বেচ্ছাশ্রমে এলাকা থেকে বাঁশ ও কাঠ নিয়ে নদীর উপর একটি অস্থায়ী সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে। যেটা দিয়ে প্রতিনিয়ত শিশু, বৃদ্ধ, রোগী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, কৃষকসহ সব শ্রেণির পেশার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ওই নড়েবড়ে সাঁকো পারাপার হচ্ছে। তবে বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরোও চরমে উঠে। সাঁকোটি সরু ও নড়েবড়ে হওয়ায় প্রায় সময়ে দুর্ঘটনা ঘটে। বিকল্প কোন পথ না থাকায় বর্তমানে নির্মিত বাঁশ ও কাঠের তৈরী সাঁকোর ওপর নির্ভর করছেন এলাকাবাসি, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও অস্থায়ী। স্থানীয়দের দাবি এই স্থানে জরুরী ভিত্তিতে একটি ব্রীজ নির্মাণ করা হয়। 

স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, কৃষকরা ফসল উৎপাদন করে তা বাজারে নিতে পারেন না ঠিকভাবে। পণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থী চলাচল, রোগী হাসপাতালে নেওয়াসহ সব ক্ষেত্রেই দূর্ভোগ পোহাতে হয় এই ২৫ টি গ্রামের ৬০ হাজার মানুষের। তাই সরকারের কাছে জোর দাবী নদীতে জরুরী ভাবে একটি স্থায়ী ব্রীজ নির্মাণ করে দেন।

কৃষক মো. সোনা মিয়া বলেন, আমরা ফসল উৎপাদন করি, কিন্তু বাজারে নিতে গেলে গাড়ি পাওয়া যায় না। রোগী নিলে কখন সাঁকো ভেঙ্গে পড়ে যায়, সেই ভয় থাকে। এত মানুষ, কিন্তু একটা ব্রীজ নেই। আমাদের দাবি এইখানে একটা ব্রীজ চাই।

গাড়ি চালক সোহেল বলেন, আমরা শ্রমিক গাড়ি চালাইয়ে আমাদের জীবন বাচায়। এই নদীর উপর ব্রীজ না থাকায় আমার গাড়ি অন্যের বাড়িতে চার্জ দিতে হয়। যা আমার আয়ের চেয়ে ব্যায় অনেক বেশি এমনকি ব্রীজ না থাকায় কৃষকের উৎপাদিত ফসল আমরা পারাপার করতে পারি না। সরকারের কাছে আমাদের দাবি এখানে একটা ব্রীজ নির্মাণ করা হোক। যাতে করে আমাদের দুর্ভোগ কমবে।

চরশৌলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কেএইচএম সাইদুর রহমান দুলাল বলেন, এখানে একটা ব্রীজের জন্য উপজেলা সমন্বয় মিটিংয়ে একাধীকবার আলোচনা করা হয়েছে। তারা আমাদের কোন গুরুত্ব দেয় নাই । স্বাধীনতার এত বছর পরও আমাদের একটি ব্রীজের জন্য মানববন্ধন করতে হচ্ছে এটা লজ্জাজনক। তবে আমাদের প্রাণের দাবি দ্রুত সময়ের মধ্যে হলহলিয়া নদীতে একটি স্থায়ী ব্রীজ নির্মাণ করা হোক। এ মানববন্ধন থেকে সড়ক ও জনপথ বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসন এবং কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের প্রতি জোর দাবি আমাদের এই অবহেলিত অঞ্চলে একটি টেকসই ব্রীজ নির্মাণ কওে দিয়ে এলাকা মানুষের এই জন দুর্ভোগ থেকে মুক্তিদিন।

উপজেলা প্রকৌশলী মো. মুনছুরুল হক এর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করেও তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার উজ্জল কুমার হালদার বলেন, এ বিষয়ে আমি খোজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft