মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক ও নার্স সংকটে সেবা ব্যাহত
মোহনগঞ্জ (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১ জুলাই, ২০২৫, ৩:১১ পিএম আপডেট: ০১.০৭.২০২৫ ৩:১২ পিএম

মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক ও নার্স সংকটে রোগীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক ও নার্স কর্মচারী সংকটে রোগীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না। ১০০ শয্যার এই হাসপাতালটি পার্শ্ববতী উপজেলা-সহ প্রায় ০৮ লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার ভরসাস্থল। 

কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা না পেয়ে রোগীদের ছুটতে হয় জেলা সদরসহ অন্যান্য হাসপাতাল ও প্রাইভেট ক্লিনিকে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সূত্রে জানা গেছে, ১০০ শয্য এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে ২১ জন স্বাস্থ্য কর্মকর্তার পদ থাকলেও আবাসিক কর্মকর্তাসহ রয়েছেন মাত্র ৪ জন। পর্যায়ক্রমে তাদের দিয়ে জরুরি ও অন্তঃবিভাগের কাজ চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে। 

এর মধ্যে ২০১৪ সালে থেকে অনুপস্থিত রয়েছেন ২ জন চিকিৎসক, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহত ছাত্রদের চিকিৎসার জন্য এসেসমেন্টে অন্যন্ত্রে রয়েছেন ১ জন। নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতালে রয়েছেন ১ জন। এদিকে চিকিৎসক সংকটে ছোট ছোট সমস্যাতেও রোগীদের রেফার্ড করা হচ্ছে নেত্রকোণা কিংবা ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এছাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে আয়া, ওয়ার্ডবয় ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীরও সংকট রয়েছে।

চিকিৎসক না থাকায় বিপুলসংখ্যক রোগীকে কতৃপক্ষ দায় এড়াতে অন্যত্রে রেফার্ড করছেন। 

সোমবার সরেজমিনে হাসপাতালটি ঘুরে দেখা যায়, বহির্বিভাগে নারী, শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের রোগীদের দীর্ঘ লাইন। লাইনে দাঁড়িয়ে দীর্ঘ অপেক্ষার পর চিকিৎসক দেখাতে না পেরে হতাশ হয়ে ফিরে গেছেন অনেকেই। 

উপজেলার ৬নং সুয়াইর ইউনিয়নের কুলপুতাক গ্রাম থেকে আসা রোকেয়া আক্তার (৩৫) তার মেয়ের গুরুতর চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে এসেছিলেন। অবশেষে হাসপাতালে কোনো ডাক্তার না পেয়ে সন্ধায় প্রাইভেট একটি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফেরেন তিনি। 

হাসপাতাল নার্স ও স্থানীয় সূত্রে, মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি হাওর বেষ্টিত খালিয়াজুড়ি, বারহাট্রা, কারমাকান্দা, ধর্মপাশা, মধ্যনগর, জামালগঞ্জ, তাহেরপুর, সাছনাসহ অদূরে মোহনগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির অবস্থান হওয়ায় এই হাসপাতালটির গুরুত্ব অনেক বেশি। ছোট-বড় দুর্ঘটনায় দ্রুত চিকিৎসার জন্য আহতদের এই হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু চিকিৎসক না থাকায় তাদের পাঠানো হয় নেত্রকোণা কিংবা ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেসহ বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিকে। এতে পথেই অনেক সময় রোগীর মৃত্যু ঘটে। 

জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোঃ মোমেনুল ইসলাম বলেন, আবাসিক চিকিৎসক কর্মকর্তাসহ হাসপাতালে  চিকিৎসক সংকট রয়েছে। পোস্ট হিসাবে ২৮ জন। ২১ জন চিকিৎসকের মধ্যে সব মিলিয়ে ৪ জন আছে। তাদের দিয়ে জরুরি ও অন্তঃবিভাগের কাজ চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহত ছাত্রদের চিকিৎসার জন্য এসেসমেন্টে অন্যত্র রয়েছেন ১ জন। নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতালে আছেন ১ জন। সবগুলো সার্পোট থাকলে আরও ভাল চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হতো। যেমন: ডাক্তার, নার্স, স্টাফ যদি যথাযথ পরিমাণে থাকতো। তাহলে যে সমস্ত সুযোগ সুবিধা আছে তা প্রয়োগ করে। চিকিৎসা সেবার মান আরও বৃদ্ধি করা যেতো।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft