প্রকাশ: রোববার, ২২ জুন, ২০২৫, ৯:০৬ পিএম

পঞ্চগড়ের বোদায় কলেজ শিক্ষার্থীকে গণধর্ষণের অভিযোগে বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (২২ জুন) বিকালে বোদা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পাথরাজ সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীদের ব্যানারে শিক্ষার্থীরা ঘন্টাব্যাপি এই মানবন্ধন কর্মসুচি পালন করে।
এর আগে পাথরাজ সরকারি কলেজ থেকে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্রতিবাদী প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার সহ বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এসে মানববন্ধনে জড়ো হয়।
মানবন্ধনে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা মোছা. রোওসানা বেগম বলেন, " আমি একজন অসহায় মা হিসেবে আমার সন্তানের সাথে ঘটে যাওয়া অপকর্মের ন্যায় বিচার চাই"। এসময় পাথরাজ সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী রাইসা আক্তার, আবু সাঈদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। বক্তারা ধর্ষণকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারসহ দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন।
জানা যায়, বোদা পাথরাজ সরকারি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে রেজিস্টারের (কাজী) বাড়ি নিয়ে যাওয়ার কথা বলে রাস্তা থেকে সিএনজিতে উঠিয়ে গত ১১ জুন বিকালে অপহরণ করে উপজেলার মাড়েয়া বামনহাট ইউনিয়নের বারপাটিয়া জুরন পাড়া গ্রামের হাসমত আলীর ছেলে রাজিব ইসলাম (৩৫), রাসেল ইসলাম (২৫) ও অজ্ঞাতনামা দুই ব্যক্তি। পরে অপহরণকারীরা তাকে পানির সাথে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খাইয়ে অচেতন করে জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে। ধর্ষণকারীরা ওই শিক্ষার্থীকে ২২ ঘন্টা আটকে রেখে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে কাউকে কিছু না বলার শর্তে ১২ জুন বিকালে ফুটকীবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ফেলে পালিয়ে যায়। পরে খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বোদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে আধুনিক সদর হাসপাতাল পঞ্চগড়ে ভর্তি করা হয়। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ১৫ জুন পর্যন্ত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল।
এদিকে ওই শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে গত ১৮ জুন পঞ্চগড় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে রাজিব ইসলাম (৩৫), রাসেল ইসলাম (২৫) ও অজ্ঞাতনামা দুইজন সহ ৪ জনের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন, গণধর্ষণ ও অপহরণ মামলার আবেদন করেন।
এ বিষয়ে বোদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজিম উদ্দীন বলেন, প্রেমঘটিত কারণে দুই সন্তানের জনক রাজিব ইসলামের সঙ্গে পালিয়ে গেছে এমন খবরের ভিত্তিতে বোদা থানা পুলিশ ভিকটিমকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ বিষয়ে তারা থানায় কোন অভিযোগ দায়ের করেনি। আদালত থেকেও আমরা মামলার কোন কাগজপত্র পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।